• বর্ধমান রাজবাড়িতে দু'টি রথের রশিতে টান! কেন?
    আজকাল | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ​সরকারি অনুদান হিসেবে মেলেনি পাঁচ লক্ষ টাকা, তবুও ঐতিহ্যের টানে এবং নিয়ম মেনে এবারেও নিয়মরক্ষার জন্যই টানা হল রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরের রথ। আনুমানিক সাড়ে তিনশ বছরের প্রাচীন এই রথ উৎসবকে কেন্দ্র করে আজও স্থানীয় মানুষের মধ্যে আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। 

    জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর আগের সেই জাঁকজমক ও আড়ম্বর কমলেও, আবেগের টানে আজও এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে মেলা বসে এবং বহু ভক্তের সমাগম ঘটে।

    ​এই মন্দিরের প্রধান পুরোহিত উত্তম মিশ্র জানান, লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরের রথযাত্রার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এখানে অন্য রথের মতো জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের মূর্তি থাকে না। মন্দিরে দু'টি রথ রয়েছে। একটি রানির রথ এবং অন্যটি রাজার রথ। রানির রথে শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ জিউয়ের শিলামূর্তি চড়েন। আর কাঁঠালতলায় থাকা রাজার রথে রাধাদুলাল গোপালকে স্থাপন করে মন্দিরের চত্বরের ভেতরেই রথ টানা হয়। এই রথ বাইরের রাস্তায় বের হয় না। সারাদিন রথ মন্দির চত্বরেই অবস্থান করে এবং দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পুজো দিতে আসেন। সন্ধ্যায় মালপোয়া ভোগ নিবেদন করে ঠাকুরকে শয়ন দেওয়া হয়।

    ​পুরোহিত  আক্ষেপের সঙ্গে জানান, রাজ আমলের সেই জাঁকজমক এখন আর নেই। লাইট, প্যান্ডেল এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তার জোগাড় সম্ভব হয় না। পিতলের তৈরি রাজার রথটি বর্তমানে অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ভগ্ন অবস্থায় রয়েছে, যা ক্রমশ ভেঙে পড়ছে। একই সঙ্গে মন্দিরের অবস্থাও শোচনীয়। গত বছর এই মন্দিরের একাংশ ভেঙে পড়ে। সরকারিভাবে পুরনো রথ ও মন্দিরের সংস্কারের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই অর্থ এখনও এসে পৌঁছায়নি।

    ​জানা গিয়েছে, মহতাব ট্রাস্টের সেবাইত নন্দিনী মহতাবের পক্ষ থেকে ট্রাস্টের প্যাডে নির্দিষ্ট আবেদনপত্র জমা না দেওয়ায় এই অনুদান আটকে রয়েছে। যদিও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিধায়ক তথা মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস যথারীতি সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন।কিন্তু ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি না পাঠানো পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না। 

    প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি দিন দিন আরও খারাপ পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবুও সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে প্রাচীন ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও রথযাত্রার আনন্দ উৎসবে শামিল হয়েছেন মানুষজন। আকারে ছোট হয়ে গেলেও এবারেও মেলা বসেছে। রয়েছে মাটির পুতুল,প্লাস্টিকের খেলনা,পাঁপড়ভাজা। প্রবীণ নাগরিক পদ্মা দে জানান,  ছোট থেকেই এই রথ দেখতে আসি। জৌলুস না থাকলেও এর আকর্ষণ রয়েই গিয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)