আজকাল ওয়েবডেস্ক: জনবহুল রাস্তায় এক যুবতীর সঙ্গে অভব্য ও অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এক দুষ্কৃতী বাহিনী। হাওড়ার লিলুয়া থানার অন্তর্গত বেলগাছিয়া 'কে' রোডে বুধবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক। পরে ভাইয়ের ‘অপমানের’ বদলা নিতে ফিল্মি কায়দায় দিদির ডেকে আনা ৫০-৬০ জনের সশস্ত্র বাইক বাহিনী এলাকার সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। এই পরিকল্পিত হামলায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সন্ধ্যায়। জগন্নাথ মন্দিরের কাছে যখন এলাকাবাসী রথযাত্রার প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই সময় সালকিয়ার বাসিন্দা এক যুবক ও তার বান্ধবী রাস্তার পাশে অশালীন আচরণ করছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কমল ঘোষের বয়ান অনুযায়ী, এই অভব্য আচরণের প্রতিবাদ করলে সালকিয়া থেকে আসা ওই যুবক স্থানীয় দুই তরুণকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়ে। কিন্তু বিষয়টি এখানেই শেষ হয়নি। নিজের অপমানের ‘প্রতিশোধ’ নিতে ওই যুবক দ্রুত যোগাযোগ করে তার দিদির সঙ্গে। অভিযোগ, কিছুক্ষণ পরেই সালকিয়া থেকে ২৫টি বাইকে করে ৫০-৬০ জনের এক সশস্ত্র গ্যাং বেলগাছিয়া এলাকায় চড়াও হয়।
এলাকাবাসীদের দাবি, হামলাকারীরা এলাকায় পৌঁছামাত্রই কোনও কিছু না ভেবেই স্থানীয়দের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় এলোপাথাড়ি মারধর। আচমকা এই আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েন এলাকাবাসীরা। প্রাণের ভয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন পথচলতি মানুষ ও স্থানীয় দোকানদাররা।
তবে স্থানীয়রাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে এলাকায় শুরু হয় খণ্ডযুদ্ধ। এই সংঘর্ষের জেরে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত হন সালকিয়া থেকে আসা ওই হামলাকারী দলেরই একজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই গ্যাংটি রীতিমতো প্রস্তুতি নিয়েই হামলা চালিয়েছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে লিলুয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশকে দেখেই হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় পুলিশ গুরুতর আহত এক হামলাকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়। তাকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কমল ঘোষ আরও জানান, ওই যুবক তার বাবাকে একজন উকিল হিসেবে পরিচয় দিয়ে উল্টো প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছিল। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অন্যান্য হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। দিনের আলোয় প্রকাশ্য রাস্তায় এমন অরাজকতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।