• ঝাঁ-চকচকে হবে সরকারি স্কুল, স্মার্ট ক্লাসরুম, নতুন রান্নাঘর, বাউন্ডারি ওয়াল, স্কুলছুট কমবে কী?
    আজ তক | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • জেলার সরকারি স্কুলগুলির চেহারা আমূল বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে শিক্ষা দফতর। আধুনিক পরিকাঠামো, স্মার্ট ক্লাসরুম, উন্নত মিড-ডে মিল রান্নাঘর থেকে শুরু করে পড়ুয়াদের জন্য আকর্ষণীয় শিক্ষার পরিবেশ, সব মিলিয়ে সরকারি স্কুলগুলিকে বেসরকারি স্কুলের সমকক্ষ করে তোলাই লক্ষ্য। উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিও এই প্রকল্পের আওতায় আসবে।

    শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি স্কুলে পর্যায়ক্রমে স্মার্ট ক্লাসরুম গড়ে তোলা হবে। মিড-ডে মিলের রান্নাঘর আধুনিকীকরণ করা হবে। স্কুল চত্বরে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের পাশাপাশি এমন পরিকাঠামো তৈরি করা হবে, যাতে পড়ুয়ারা পড়াশোনার ফাঁকে খেলাধুলা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাস্তবমুখী শিক্ষা লাভ করতে পারে।

    এক শিক্ষাঅধিকারিকের কথায়, নতুন রাজ্য সরকার সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে কিছু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধি ও নানা অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে সরকারি স্কুলগুলিকেই আধুনিক ও আকর্ষণীয় করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার, যাতে অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়ে।

    এর পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতি ও পাঠদানের ক্ষেত্রেও কড়া নজরদারি চালু করা হবে। নির্ধারিত সময়ে স্কুলে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অতীতে অনিয়মিত উপস্থিতি বা ঠিকমতো ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগ ছিল কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সেই ধরনের অনিয়মে এবার কড়া রাশ টানতে চাইছে শিক্ষা দফতর।

    ভগ্নপ্রায় স্কুলের সংস্কারে বিশেষ জোর
    শিক্ষা দফতরের আর এক আধিকারিক জানান, জেলার বহু সরকারি স্কুল এখনও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও ছাত্রছাত্রীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, কোথাও আবার ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে। এমন স্কুলগুলিকে চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হবে। ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    শুধু পরিকাঠামো নয়, পড়াশোনার মানোন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যেসব স্কুলের ফলাফল ধারাবাহিকভাবে খারাপ, সেগুলিকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হবে। সেখানে অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

    ড্রপআউট রুখতে বাড়ি বাড়ি যাবেন শিক্ষকরা
    স্কুলছুটের হার কমাতে এবং নাবালিকা বিয়ে রুখতে নতুন পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। কোনও ছাত্রছাত্রী হঠাৎ স্কুলে আসা বন্ধ করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাদপ্তরের আশা, এতে যেমন ড্রপআউট কমবে, তেমনই নাবালিকাদের অল্পবয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

    শিক্ষক সংকটই বড় চ্যালেঞ্জ
    তবে এই উদ্যোগ সফল করতে শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি দূর করাকেও জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষামহলের একাংশ। জেলার বহু স্কুলে এখনও প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম। আবার কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর তুলনায় শিক্ষক বেশি। এই ভারসাম্যহীনতা দূর না করলে পরিকাঠামো উন্নয়নের সুফল পুরোপুরি মিলবে না বলেই মত তাঁদের। অনেকের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে শহরের স্কুলে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে, অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকার বহু স্কুল দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক সংকটে ভুগছে।

     
  • Link to this news (আজ তক)