একসময় একুশে জুলাই মানেই ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিপ্রদর্শনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মঞ্চ। ধর্মতলায় লক্ষ লক্ষ কর্মী-সমর্থকের সমাবেশে বক্তব্য রাখতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদল হতেই বদলে গেছে চিত্রটা। । কংগ্রেস, মমতাপন্থী তৃণমূল এবং ঋতব্রত শিবির পৃথক কর্মসূচি করছে। আর এই আবহেই এনসিপিআই-ও (NCPI) শহিদ দিবস পালন করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর বক্তব্য, শহিদ কোনও ব্যক্তি বা দলের একার নয়, তাই তাঁরাও এই দিনটি পালন করবেন।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বক্তব্য, 'আমার শহিদ-তোমার শহিদ বলে কিছু নেই। যে ঘটনাটা ঘটেছিল, তার সাক্ষী আমরাও ছিলাম। পৃথিবীর সকল শহিদকে সম্মান জানানোটা আমাদের কর্তব্য। আমরাও শহিদ দিবস পালন করব।' ফলে, এবার ২১ জুলাইয়ে তিলোত্তমা সাক্ষী থাকতে পারে চারটে শহিদ স্মরণের। তবে কীভাবে বা কোথায় এই কর্মসূচি হবে, সে বিষয়ে কাকলি স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
প্রসঙ্গত, এবারের একুশে জুলাইকে ঘিরে রাজনৈতিক আবহ আগের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। শহিদ মিনারে কংগ্রেসের কর্মসূচি, গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ঋতব্রত শিবিরের সমাবেশ এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাট তৃণমূলের সভা, সব মিলিয়ে ধর্মতলা চত্বরের আশপাশে একাধিক রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। সেই আবহেই NCPI-এর সম্ভাব্য কর্মসূচি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও এনসিপিআইয়ের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও কর্মসূচির ঘোষণা হয়নি। ফলে আদৌ আলাদা মঞ্চ হবে, নাকি অন্য কোনও কর্মসূচির মাধ্যমে শহিদ দিবস পালন করা হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে কাকলি দোঘদস্তিদারের বক্তব্য ঘিরে একুশে জুলাইয়ের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হওয়ার জল্পনা শুরু হয়েছে।
একটা সময় যে শহিদ দিবসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র অধিকার ছিল, সেটাই এখন বহুধা বিভক্ত। ২১ জুলাই কার? সেই প্রশ্নই এখন উঠছে। শহিদ মিনারে কংগ্রেস নিজেদের মতো করে শহিদ সমাবেশ করার ডাক দিয়েছে। ঋতব্রত তৃণমূল গান্ধীমূর্তির সামনে সমাবেশের আয়োজন করেছে। আবার কালীঘাট তৃণমূল ডোরিনা ক্রসিংয়ে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে, বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভার অনুমতি পেয়েছে। অর্থাৎ একুশে জুলাই ধর্মতলার আশেপাশে তিনটি আলাদা রাজনৈতিক শিবিরের আলাদা আলাদা সমাবেশ হবে। এসবের মধ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এনসিপিআই-ই বা পিছিয়ে থাকে কেন? এর মধ্যেই নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে এনসিপিআই (NCPI)। তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া কুড়ি সাংসদের এই শিবিরও একুশে জুলাই উপলক্ষে পৃথক স্মরণসভার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। একসময় যে একুশে জুলাই তৃণমূলের ঐক্যের প্রতীক ছিল, আজ সেই দিনই হয়ে উঠেছে বিভক্ত রাজনীতির প্রতিচ্ছবি। একই ইতিহাস, একই শহিদ, কিন্তু আলাদা আলাদা মঞ্চ, বাংলার রাজনীতিতে এই দৃশ্য নিঃসন্দেহে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।
কাকলি ঘোষদস্তিদারের বক্তব্য, 'শহিদ সবার। শুধু কোনও একটি রাজনৈতিক দলের শহিদ নন। যাঁরা দেশের জন্য, মানুষের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব। তাই আমরাও শহিদদের স্মরণ করব।'ফলে রাজনৈতিক মহলের হিসাব বলছে, এবারের কলকাতা একই দিনে চারটি আলাদা শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে চলেছে। এদিকে এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'NCPI-র সাংসদরা আদৌ সেদিন বাংলায় থাকবেন তো? ওঁরা কি আলাদা করে অনুমতি নেবেন? কারণ তাঁরা তো ঋতব্রতদের সঙ্গেও নেই। বাংলার মানুষ এখন এক অদ্ভুত রাজনৈতিক সার্কাস দেখছেন।'