• ‘চেষ্টা করবেন পুজোকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত করার’, খুঁটিপুজোয় বার্তা দিলেন শমীক
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • কলেজ স্কোয়ারের দুর্গাপুজোর রাশ কি শমীক ভট্টাচার্যের হাতে যাচ্ছে? এমন প্রশ্ন কদিন ধরেই উঠতে শুরু করেছে। তবে এমন গুঞ্জনে জল ঢেলে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। বৃহস্পতিবার কলেজ স্কোয়ার সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির খুঁটি পুজোয় উপস্থিত হয়ে শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিলেন, এই পুজোর সঙ্গে তিনি মন দিয়ে যুক্ত থাকবেন। কিন্তু কোনও পদে থাকবেন না। শুধু কলেজ স্কোয়ার নয়, রাজ্যের কোনও পুজো কমিটিরই পদে তিনি বসবেন না। তবে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলা মনে হচ্ছে বাংলাদেশ হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশে দুর্গাপ্রতিমার হাত ভেঙে, ঘট তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই রাজ্যেও দিকে দিকে বাংলাদেশের মতো নিদান দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শমীক।

    এদিকে সমাজমাধ্যমেও পুজো নিয়ে বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। পুজোয় সাধারণ মানুষ মেতে উঠুক। পুজো নিয়ে যেন রাজনীতিকরণ না হয় সেই বার্তাই বারবার দিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ। এদিন খুঁটিপুজোয় অংশ নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের সাফ বার্তা, ‘দুর্গাপুজোর স্বতন্ত্রতা, সর্বজনীন চরিত্র এবং স্বাধীনতা বজায় রাখাই আমার লক্ষ্য। উৎসব মানুষের, তাই পুজোর নিয়ন্ত্রণও মানুষের হাতে থাকা উচিত। কোনও রাজনৈতিক নেতার অধীনে নয়। মাঝে পুজো বলা হতো না। উৎসব করে দেওয়া হয়েছিল। এটা পুজো। এই পুজোকে ধরে রাখতে হবে।’

    অন্যদিকে খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বাঙালির আবেগের দুর্গাপুজোকে রাজনীতির আঙিনা থেকে মুক্ত রাখার জোরালো সওয়াল করেন। আবার পশ্চিমবঙ্গে এবার নির্বিঘ্নে দুর্গাপুজো হবে। রাজ্যে মৌলবাদ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে দুর্গাপুজোর গান বাজানোর পরে সেখানেই ডিজে বাজিয়ে দেওয়া হয়। ডিজে শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, বাংলাদেশেও এই সংস্কৃতি রয়েছে। মুর্শিদাবাদেও ডিজে বেজেছে। সেখানে প্রতিমাশিল্পী বাবা ও ছেলে হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাসকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। নানা জায়গায় বাংলাদেশের মতো নিদান দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শমীক। বিজেপির রাজ্য সভাপতি স্পষ্টভাষায় বলেন, ‘দেবীর থিম যত ভালই করুন, রুদ্র পালের তৈরি করা কলেজ স্কোয়ারের সাবেকি প্রতিমা করে দিলেও, শুধু প্যান্ডেলের সাজে কিন্তু দুর্গাপুজোয় লোক আসবে না। এটা পুজো, এটা বাঙালির কাছে বড় প্রিয়। এই পুজোকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।’

    তাছাড়া শমীক স্পষ্ট করে দেন, দুর্গাপুজো ‘উৎসব’ নয়, ওটা পুজো। বিগত তৃণমূল সরকার পুজোকে উৎসব করে দিয়েছিল। তাই তাঁর কথায়, ‘মাঝে আবার দুর্গাপুজোকে পুজো বলা হতো না। উৎসব করে দেওয়া হয়েছিল। উৎসব করে দেবী প্রতিমাকে সরিয়ে নিলে কোনও মানুষ কলেজ স্কোয়ারে ঢুকবে না। চেষ্টা করবেন পুজোকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত করার। কতটা সফল হবেন জানি না, তবে চেষ্টাটা যেন থাকে। এই পুজোয় আমি যদি যুক্ত হতে পারি, তবে সবরকম সহযোগিতা করব। পুজোর দিনগুলোয় সকাল সকাল আমি এখানে চলেও আসব। কিন্তু অনুগ্রহ করে আমাকে কোনও পদে রাখবেন না। আমি যদি এখানে পুজোর সভাপতি হই, তবে আজ যে বার্তা দিচ্ছি তা দিতে পারতাম না। যখন দীর্ঘদিনের একদলীয় একচেটিয়া একাধিপত্য সমাজের বহুত্ববাদকে ধ্বংস করে মানুষের উপর চেপে বসে, আর তার থেকে যখন মানুষ মুক্ত হয়, তখন লাগামহীন হয়ে যায়। উচ্ছ্বাসটা তখন উচ্ছৃঙ্খলতার রূপ নেয়, আর প্রতিহিংসা অর্থনৈতিক আবরণ পায়। আমি সেটা হতে দিতে চাই না।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)