নিয়ম মেনে তৈরি হয়নি। নেই অমুসলিম সদস্য। তাই কেরলের ওয়াকফ বোর্ডকে নিষ্ক্রিয় ঘোষণা করল সে রাজ্যের হাই কোর্ট। কেরল হাই কোর্ট জানিয়ে দিল, আইন মেনে তৈরি না হলে ওয়াকফ বোর্ড কাজ করতে পারে না। যতদিন না নতুন করে সংবিধান মেনে ওয়াকফ বোর্ড গঠিত হয়, ততদিন ওয়াকফ সম্পত্তি দেখাশোনা করবেন ওয়াকফের দায়িত্বে থাকা সচিব।
আসলে কিছুদিন আগে কেরল হাই কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা শন জর্জ ও একটি খ্রিস্টান সংগঠন। মামলাকারীর দাবি ছিল, কেরলে বর্তমানে যে ওয়াকফ বোর্ড কাজ করছে, সেটা অসাংবিধানিক। নতুন ওয়াকফ সংশোধনী আইন মেনে তৈরি হয়নি। তাই ওই কমিটিকে নিষ্ক্রিয় ঘোষণা করা হোক। ওই মামলার শুনানিতে কেরল হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি ভিএম সূর্যকুমারের বেঞ্চ অন্তর্বর্তী রায়ে জানাল, যতদিন না নতুন করে গঠিত হচ্ছে ততদিন কেরলের ওয়াকফ বোর্ড নিষ্ক্রিয় থাকবে।
আসলে কেরলের ওয়াকফ বোর্ডে ১১ জন সদস্যের বদলে মাত্র ৯ জন সদস্য রয়েছেন। বোর্ডে বাধ্যতামূলকভাবে দু’জন অমুসলিম সদস্য থাকার কথা। সেটাও রাখা হয়নি। শুনানি চলাকালীন সদ্য নির্বাচিত কংগ্রেস সরকারের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেলও মেনে নিয়েছেন, ওই ওয়াকফ বোর্ড গঠনের সময় সংবিধান মানা হয়নি। এরপরই আদালত জানিয়েছে, “অমুসলিম সদস্যের শর্ত না মানা হলে বর্তমান বোর্ড কাজ চালিয়ে যেতে পারে না।” আদালতের এই রায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ শুধু কেরল নয়, এখনও দেশের বেশিরভাগ রাজ্যেই ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য নেই।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রের সংশোধিত ওয়াকফ আইন অনুযায়ী, ওয়াকফ বোর্ডের সব সদস্যের আর মুসলিম হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। নতুন আইন অনুযায়ী ওয়াকফ বোর্ডের দু’জন সদস্য অনুসলিম হতে হবে। সদ্যই ওই আইন অনুযায়ী মধ্যপ্রদেশে ওয়াকফ বোর্ড গঠিত হয়েছে। প্রথম রাজ্য হিসাবে মধ্যপ্রদেশ ওয়াকফ বোর্ডে দু’জন হিন্দুকে জায়গা দিয়েছেন। যা পরিস্থিতি তাতে আগামী দিনে সব রাজ্যের বোর্ডেই অমুসলিম সদস্য অন্তর্ভুক্ত হবেন।