বিশ্বকাপ সেমির পর ফকল্যান্ড বিতর্কে উত্তাল আর্জেন্তিনা, পোড়ানো হলো ইংল্যান্ডের ফ্ল্যাগ
এই সময় | ১৬ জুলাই ২০২৬
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্তিনা। রাজধানী বুয়েনস আইরেসসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে উদ্যাপন করেন। তবে এই আনন্দ-উৎসবের মধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে কিছু সমর্থকের আচরণ। সোশ্যল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, কিছু সমর্থক ইংল্যান্ডের পতাকায় আগুন দিচ্ছেন এবং সেন্ট জর্জের ক্রস আঁকা কফিন প্রদর্শন করছেন।
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালকে ঘিরে আগে থেকেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। ম্যাচের পর সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
ফকল্যান্ড ইস্যু ঘিরে নতুন বিতর্ক
সেমিফাইনালের আগে থেকেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্তিনার রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য আলোচনায় ছিল। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইংল্যান্ডকে ‘দখলদার জলদস্যু’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই (Javier Milei) বলেছিলেন, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্তিনার হাতে ফিরিয়ে আনতে আমরা সম্ভাব্য সব কিছু করছি। সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনও আপোস হবে না।’
ম্যাচ চলাকালেও দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। জাতীয় সঙ্গীতের সময়ও সেই উত্তেজনার ছাপ দেখা যায় গ্যালারিতে। তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিয়ো ঘিরে। সেখানে কিছু আর্জেন্তিনা সমর্থককে ইংল্যান্ডের পতাকায় আগুন দিতে দেখা যায়, যা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ব্যানার নিয়ে নজরে আর্জেন্তিনা ফুটবলাররা
আটলান্টায় ২-১ ব্যবধানে নাটকীয় জয়ের পর আর্জেন্তিনার কয়েকজন ফুটবলার ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ লেখা একটি ব্যানার নিয়ে উদ্যাপন করেন। এর অর্থ, ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্তিনার’। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো (Cristian Romero), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ় (Lisandro Martinez) এবং জিওভানি লো সেলসো (Giovani Lo Celso)-সহ একাধিক ফুটবলারকে ওই ব্যানারের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালেও একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্তিনা ফুটবল সংস্থাকে জরিমানা করেছিল FIFA।
ম্যাচ শেষে মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস (Leandro Paredes) আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ‘ফকল্যান্ড সব সময়ই আর্জেন্তিনার ছিল, আছে এবং থাকবে।’
ফিফার তদন্তের মুখে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা?
১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্তিনার মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। সেই সংঘর্ষে দুই পক্ষের শত শত মানুষের মৃত্যু হয়। এর পর থেকে দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্তিনা এখনও তার দাবি ছাড়েনি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ওই ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে ফিফা ফের তদন্ত শুরু করতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা করা হয়নি।