১৬ জুলাই রথযাত্রা, পুরীতে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমারোহে পালিত হচ্ছে এই রথযাত্রা উৎসব। আধ্যাত্মিকতা ও ভক্তিরসের উচ্ছ্বাসে ভেসে জগন্নাথ দেবের রথ চলল মাসির বাড়ির উদ্দেশে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় রথযাত্রা হল তমলুক মহাপ্রভু মন্দিরের রথযাত্রা। এই রথযাত্রা প্রতি বছর সূচনা করেন বর্তমান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শেষ দশ বছর ধরে তিনি এই রথের সূচনা করে আসছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাতে ছেদ পড়ল না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই তমলুকের ঐতিহ্যবাহী মহাপ্রভু মন্দিরে রথযাত্রার সূচনা হল।
রথযাত্রা দিন সকাল থেকেই তমলুক মহাপ্রভু মন্দিরে ভক্তদের সমাগম হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই রথের সূচনা করবেন তাই সকাল থেকেই পুলিশ প্রশাসনের চূড়ান্ত ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। বিকেল তিনটার পর তমলুক মহাপ্রভু মন্দিরে আসেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমে তিনি মন্দিরের ভেতরে রাধামাধবের পুজো ও আরতি করেন। তার পর মন্দিরের বাইরে জগন্নাথ বলরাম ও সমুদ্র দেবীর রথের সামনে আরতি করেন। এমনকি তিনটি রধের সামনে ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করেন। মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা কারিগরি দফতরের প্রতিমন্ত্রী তথা তমলুকের বিধায়ক ডক্টর হরেকৃষ্ণ বেরা। বিধায়ক সিন্টু সেনাপতি সহ পূর্ব মেদিনীপুরে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার ও জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকেরা।
তমলুকের ঐতিহ্যবাহী মহাপ্রভু মন্দিরের রথে সামিল হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবছরের মত এবারেও তাম্রলিপ্ত ঐতিহ্য বহনকারী মহাপভু ও মন্দিরে আমি রথযাত্রা উপলক্ষে উপবিষ্ট হয়েছি। আমি বরাবর বলেছি আমার রাজনৈতিক মত পথ অথবা আমার পদোন্নতি তার সঙ্গে এই মহাপ্রভু মন্দিরের উৎসবে অংশগ্রহণ কোনওটাই সম্পৃক্ততা নেই। এটা সম্পূর্ণ একজন ভক্ত হিসেবে আমি গত ১০ বছরেরও বেশি সময়কাল এই ঐতিহ্যবাহী মহাপ্রভু মন্দিরে আসি। এখানে আমাকে সেবক হিসেবে, ভক্ত হিসেবে বরাবর আমন্ত্রণ করেছেন। আমি কোনও রাজনীতি করি, কোনও পদে আছি সেটা বিবেচ্য ছিল না, আমি একজন সনাতনী, আমি রাধা মাধবের একজন শিষ্য এবং একজন ভারত মাতার সন্তান, মহাপ্রভু জগন্নাথ দেবের চরণাসৃত দাস, সেই হিসাবে আমি প্রত্যেকবারে আসি, এবারেও এসেছি।”
প্রসঙ্গত, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রথযাত্রা উৎসবে সামিল হয়েছে সাধারণ মানুষ। প্রাচীন নগরী তমলুকে মহাপ্রভু মন্দিরের এই রথযাত্রায় দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসেছেন। ভক্তদের ভক্তি রস ও আধ্যাত্মিকতায় এই রথযাত্রা কার্যত বড় উৎসবের পরিণত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই রথযাত্রার সূচনা করে ভক্তদের উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনাকে আরও বাড়িয়ে দিল সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রথমে রথের পুজো, তারপর আরতি, নারকেল ফাটিয়ে ও রথের দড়ি টেনে রথ সূচনা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।