মেসি-বেলিংহ্যাম তর্কের নেপথ্যে কারণ কী? বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার
এই সময় | ১৬ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের উত্তেজনা তখন তুঙ্গে। এক দিকে লিওনেল মেসি), অন্য দিকে জুড বেলিংহ্যাম। হঠাৎই মাঠের মাঝখানে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন দুই তারকা। কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃশ্যই মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুরু হয় জল্পনা— ফুটবলের বর্তমানের অন্যতম সেরা তরুণ তারকা কি তবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন আর্জেন্তিনার কিংবদন্তিকে?
ইংল্যান্ডের হৃদয়ভাঙা হারের রাতেও তাই ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনার বড় বিষয় হয়ে ওঠে মেসি-বেলিংহ্যামের সেই উত্তপ্ত মুহূর্ত। আসলে কী হয়েছিল দু'জনের মধ্যে? মাঠে কি জন্ম নিয়েছিল নতুন কোনও দ্বৈরথ? ম্যাচ শেষে সেই রহস্যের পর্দা সরালেন বেলিংহ্যাম নিজেই। তাঁর দাবি, সেমিফাইনালের প্রচণ্ড চাপ, আবেগ আর মুহূর্তের উত্তেজনা থেকেই হয়েছিল ওই বাক্যবিনিময়। এর পিছনে কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ বা তিক্ততার গল্প খোঁজার কোনও কারণ নেই।
ফাউল নিয়েই তর্ক, আর কিছু নয়
ম্যাচ শেষে বেলিংহ্যাম জানান, রেফারির একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তবে বিষয়টি যতটা বড় করে দেখা হচ্ছে, বাস্তবে ততটা কিছু নয়। বেলিংহ্যাম বলেন, ‘মেসির সঙ্গে কথোপকথন? আসলে আমরা একটি ফাউল নিয়ে তর্ক করছিলাম। এর মধ্যে গুরুতর কিছু ছিল না। সবাই হয়তো এটাকে বড় ঘটনা বানাবে, কিন্তু সত্যি বলতে তেমন কিছুই হয়নি।’
ইংল্যান্ড তারকা আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল এর আগে আমাদের পক্ষে একটি ফাউল দেওয়া উচিত ছিল। তখন মেসি আমাকে বলল, আমার উপর যে ফাউল হয়েছিল, সেটার কী হবে? আমি হেসে বলেছিলাম, তুমি তো যথেষ্ট শক্তপোক্ত, ওটা সামলে নিতে পারবে। আসলে ব্যাপারটা এর বেশি কিছু ছিল না।’ বেলিংহ্যামের কথায় পরিষ্কার, মাঠের উত্তেজনার মুহূর্তে যা হয়েছিল, তা খেলারই অংশ ছিল।
হারলেও মেসির প্রতি অগাধ সম্মান
ম্যাচের সময় দু'জনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা গেলেও শেষ বাঁশি বাজার পর মেসির প্রশংসা করতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি বেলিংহ্যাম। তাঁর মতে, বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাওয়া নিজেই একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘আমি হারা দলের একজন, তাই কষ্ট তো আছেই। কিন্তু বিশ্বের সেরাদের একজনের বিরুদ্ধে খেলতে পারাটা আমার কাছে গর্বের বিষয়।’
তবে জুডের কথার মাঝেই ফুটে উঠেছে ইংল্যান্ডের আরও একটি ব্যর্থতার যন্ত্রণা। বহু বছরের অপেক্ষার পরও আন্তর্জাতিক মঞ্চে শিরোপা জেতার স্বপ্ন আবার অধরাই থেকে গেল। বেলিংহ্যান বলছিলেন, ‘এটা সত্যিই হৃদয়ভাঙা এক অনুভূতি। আমি সেই ইংল্যান্ড দলের অংশ হতে চেয়েছিলাম, যারা শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়বে। কিন্তু আজ আবার সমর্থকদের সামনে একই হতাশার কথা বলতে হচ্ছে, যা তারা বছরের পর বছর শুনে আসছেন। এর জন্য আমি দুঃখিত।’