• দপ্তর-তহবিল নিয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র উপর অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা, বিচারককে ‘কুকথা’ মমতার আইনজীবীদের
    প্রতিদিন | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • দপ্তর-তহবিল নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের উপর অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আলিপুর আদালত। তার ফলে পার্টি অফিস এবং দলীয় তহবিলের রাশ এখন ঋত-তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণাধীন। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারকের উদ্দেশে কুমন্তব্যের অভিযোগ উঠল মমতার আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। অসংসদীয় ভাষায় তাঁকে গালিগালাজ করা হয়েছে বলেই দাবি বিচারকের। মমতার আইনজীবীদের অভিযোগ, একতরফাভাবে ঋতব্রত শিবিরের পক্ষে রায় দিয়েছেন বিচারপতি। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবিতে জেলা জজের দ্বারস্থ বিচারক।

    ছাব্বিশের ভোটে গোহারা হারের পর তৃণমূল কংগ্রেস পরিবার ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃ্ত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু, দলের অভ্যন্তরের ‘বিদ্রোহে’ জেরবার। আর উলটোদিকে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘আসল’ তৃণমূলের ঘর ভরে উঠছে। যত সময় যাচ্ছে, মমতাকে একা করে একে একে তৃণমূল নেতারা ভিড়ছেন ঋতব্রত শিবিরে। তাতে চূড়ান্ত বিভ্রান্ত হয়েছিলেন সাধারণ কর্মীরা। তাঁরাই আলিপুর আদালতে মামলা করেন। আদালত জানায়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের দলটাই ‘আসল তৃণমূল’। অরূপ রায় যে দলের সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সন, সেটাই দলের আসল পরিচয়। গত ১২ জুলাই সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত সেকথা জানান।

    ঋতব্রতর প্রতিক্রিয়া, ‘‘আমরা যে দাবি করেছিলাম, আদালত তাকেই সিলমোহর দিয়েছে। নিয়মনীতি মেনে পার্টির ফান্ড, নাম – এসব আমরা ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। যারা পার্টি অফিসগুলোয় জোর করে ঢুকতে যাবেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনত পদক্ষেপ করব। মগের মুলুক চলবে না।” এনিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে আইনজীবী অর্ককুমার নাগ জানান, ‘‘এভাবে আদালতের রায়ের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এটা একটা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ। পার্টি অফিসের কথা বলছেন, ওঁরা তো নিজেরা হাঁটতে হাঁটতে গিয়ে তৃণমূল ভবন দখল করেছে। তবে কর্মীদের কোনও চিন্তা নেই। আশ্বস্ত থাকুন, এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বে দলের যাবতীয় কর্মসূচি হবে।” আদালতের রায়ের বিরোধিতায় এখন সরব ‘কালীঘাট তৃণমূল’। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)