• সংসদে বর্ষাকালীন অধিবেশনের সূচিতে সাতটি বিল, কোন কোন বিষয়ে নজর কেন্দ্রীয় সরকারের?
    এই সময় | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • আগামী ২১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে বর্ষাকালীন অধিবেশন। গত দুই মাসের মধ্যে জাতীয় রাজনীতির চিত্র অনেকটা পাল্টেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে ২০ জন সাংসদ NCPI নামক একটি দলে যোগদান করেছেন। সেই দলটি সংসদে NDA-কে সমর্থন জানাবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে। রাজস্যভাতেও সংখ্যা বাড়ছে বিজেপির। এর মাঝেই সংসদে নতুন বেশ কিছু বিল আনতে চলছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল এবং ডিলিমিটেশন বা নির্বাচনী কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল এই তালিকায় স্থান পায়নি।

    তবে সম্ভাব্য ‘Legislative Schedule’ বা সংসদীয় সূচির তালিকাটি চূড়ান্ত বা পূর্ণাঙ্গ নয়, তাই অধিবেশন চলাকালীন সরকার প্রয়োজনে আরও নতুন বিষয় বা বিল উত্থাপনের সুযোগ বজায় থাকছে। তবে তালিকায় কোন কোন বিল রয়েছে, দেখে নেওয়া যাক একনজরে—

    মার্চ মাসে লোকসভায় উত্থাপিত এই বিলটির লক্ষ্য হলো বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) সম্পদ ও বিদেশি তহবিলের উপরে নজরদারি আরও কঠোর করা। এই বিলে জানানো হয়েছে, কোনও সংস্থার এফসিআরএ (FCRA) নিবন্ধন বাতিল হলে, স্বেচ্ছায় সমর্পণ করা হলে বা রিনিউয়াল না করার ফলে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, তাদের প্রাপ্ত বিদেশি অনুদান এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদ সরকারের নির্দেশিত একটি "নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ"-এর (Designated Authority) অধীনে ন্যস্ত হবে।

    যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) কাছে পাঠানো হয়েছিল এই বিলটি। ফলে সেই কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার পরেই বিলটি বিবেচনার জন্য উত্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত এই আইনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এর আওতায় ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (UGC), অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (AICTE) এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন (NCTE)-কে বিলুপ্ত করে একটি একক ও সুসংহত নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা হবে।

    এই পাঁচটি নতুন বিল পেশ করা হবে—

    ভারতের ঋণপত্রের বাজারকে আরও শক্তিশালী করা এবং স্থিতিশীল দীর্ঘমেয়াদী বিদেশি বিনিয়োগ আন্তে এই নতুন বিল আনা হচ্ছে

    মামলার চাপ সামলানোর লক্ষ্যে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ করার উদ্দেশে এই আইনটি আনা হয়েছে।

    জন্ম ও মৃত্যু সার্টিফিকেটের জন্য কঠোরতর নিয়মকানুন ও শাস্তির বিধান প্রবর্তন করতে এবং প্রশাসনিক নথিপত্র বা রেকর্ড ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই বিলটি আনা হচ্ছে।

    জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত এবং সামগ্রিক জাতীয় সম্মানের বিষয়ে কঠোরতর নিয়ম ও সুরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করার লক্ষ্যে এই প্রস্তাবিত আইনটি ১৯৭১ সালের বিদ্যমান আইনটিতে সংশোধনী আনবে।

    ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করার লক্ষ্যে তৈরি এই বিলটি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলোর (MSME) পাওনা পরিশোধে বিলম্ব রোধের ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং একইসঙ্গে ‘এমএসএমই সহায়তা পরিষদ’ (MSME Facilitation Councils) গঠনের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারগুলোকে অধিকতর নমনীয়তা বা স্বাধীনতা প্রদান করবে।

  • Link to this news (এই সময়)