• রথের দিনে মন্ত্রীর বাড়িতে ‘জীবন্ত জগন্নাথ’, প্রসাদপুরে অভিনব আয়োজনে সম্প্রীতির বার্তা
    News18 বাংলা | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • রথযাত্রার মূল সুরই মিলন। রথের দড়িতে হাত পড়লে ধনী-দরিদ্র, জাতপাত বা সামাজিক বিভাজনের সব রেখাই যেন মিলিয়ে যায়। সেই সম্প্রীতি ও ভক্তির বার্তাকেই সামনে রেখে রথযাত্রার দিন এক অভিনব আয়োজনের সাক্ষী থাকল মুর্শিদাবাদের প্রসাদপুর গ্রাম। দরজা ঘুলতেই বাড়িতে হাজির হলেন জগন্নাথ।

    সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার বিষয়ক মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের গ্রামের বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন প্রতিবেশী ও শুভানুধ্যায়ীরা। কারণ, সেখানে পৌঁছেছিলেন ‘জীবন্ত জগন্নাথ’-এর রূপে সজ্জিত কার্তিক হালদার। নীলমাধবের সেই প্রতীকী আগমনে উৎসবের আবহ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী ঐতিহ্য মেনে তাঁকে বরণ করে নেন। প্রার্থনা করেন, জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে সকলের জীবন সুস্থতা, শান্তি ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক।

    মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “রথযাত্রা উপলক্ষে আজ সত্যিই এক অন্যরকম অনুভূতি। প্রতি বছর আমরা পুরীতে গিয়ে জগন্নাথদেবের দর্শন করি। কিন্তু আজ যেন স্বয়ং জগন্নাথদেব আমার গ্রামের বাড়িতে এসেছেন। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি যেখানে যাব, এই আশীর্বাদের অনুভূতিও সঙ্গে নিয়ে যাব। আজ জগন্নাথদেবের চরণে আমার একটাই প্রার্থনা—আমার পরিবার, গ্রাম, সমাজ, রাজ্য ও দেশের প্রতিটি মানুষ যেন সুস্থ, সুখী ও শান্তিতে থাকেন।”

    জগন্নাথের রূপে সজ্জিত কার্তিক হালদার বলেন, “মাননীয় মন্ত্রীর বাড়িতে এসে যে আন্তরিকতা ও ভালোবাসা পেলাম, তা মনে রাখার মতো। এই পবিত্র দিনে আমি সকলের কাছে একটাই বার্তা দিতে চাই—জগন্নাথদেব সর্বধর্মের, সর্বস্তরের মানুষের। জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন এবং আগামী দিনগুলো সবার জন্য মঙ্গলময় হোক।”

    রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলার এক অনন্য উপলক্ষ। প্রসাদপুরে ‘জীবন্ত জগন্নাথ’-এর আগমন সেই বার্তাকেই যেন নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল।
  • Link to this news (News18 বাংলা)