• কেন সব ছেড়ে রাস্তায় নামেন প্রভু জগন্নাথ? রথের দিনেই খোলসা হয়ে গেল সব
    News18 বাংলা | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • মায়াপুরের রাজাপুর জগন্নাথ মন্দিরে সাড়ম্বরে পালিত হল মহাপ্রভু জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে উপচে পড়েছে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়। এবারের রথযাত্রায় বিশেষ অতিথি হিসেবে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সোনার ঝাঁটা দিয়ে ঝাড়ু দিয়ে এবং রথের দড়িতে টান দিয়ে তিনি এই উৎসবের সূচনা করেন।

    রাজাপুর জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রার বিশেষত্ব তুলে ধরে মন্দিরের সেবাইত কৃষ্ণ চৈতন্য দাস জানান, সকাল থেকেই উৎসবের আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছে। জগন্নাথ দেবের উত্থাপন, মহা-অভিষেক, বিশেষ শৃঙ্গার, আরতি এবং রাজভোগ নিবেদনের মাধ্যমে দিনটির সূচনা হয়। তিনি জানান, ভগবান জগন্নাথ হলেন ‘খাবারের ভগবান’।

    এদিন রজনীগন্ধা, গোলাপ, পদ্ম, লেবু এবং বিশেষ ‘সোনা চাঁপা’ ফুলের মালার পাশাপাশি মুক্তোর মালা দিয়েও মহাপ্রভুকে অপরূপ সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। কৃষ্ণ চৈতন্য দাস আরও জানান, রাজাপুরের এই বিশেষ রথযাত্রায় তিনটি রথ বের হয়, যেখানে জগন্নাথ দেবের পাশাপাশি শ্রী কৃষ্ণ-বলরাম এবং অন্য একটি রথে শ্রী সীতা-রাম ও লক্ষ্মণ-হনুমন্ত বিরাজ করেন।

    রথযাত্রার মূল মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “যাঁরা কোনও কারণে মন্দিরে এসে ভগবানের দর্শন পেতে পারেন না, স্বয়ং জগন্নাথ দেব রথে চেপে তাঁদের দর্শন দিতে রাজপথে নেমে আসেন।” বিকেল ৩ টের পর এই মহাজাগতিক রথযাত্রার সূচনা হয়। মায়াপুর রাজাপুর জগন্নাথ দেবের মন্দির থেকে পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মায়াপুরে ইসকন মন্দিরের অস্থায়ী মাসির বাড়িতে জগন্নাথ দেব অবস্থান করবেন উল্টোরথ পর্যন্ত। উল্টো রথের দিন পুনরায় মায়াপুর ইসকন মন্দির থেকে ফিরে আসবেন রাজাপুর জগন্নাথ মন্দিরে। যেখানে হাজার হাজার ভক্তের ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি ও রথের দড়িতে টান দেওয়ার মধ্য দিয়ে উৎসব তার চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে। কড়া নিরাপত্তা ও ধর্মীয় উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই উৎসব মহাসমারোহে এগিয়ে চলেছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)