• ২১ জুলাই: শহিদ পরিবার নিয়ে দুই তৃণমূলের মধ্যে চাপানউতোর
    এই সময় | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: ১৯৯৩–এর ২১ জুলাই পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনায় নিহতদের পরিবারগুলিকে নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপড়েন। প্রতি বছর তৃণমূলের ২১ জুলাই–র মঞ্চে শহিদ পরিবারের সদস্যদের দেখতে পাওয়া যায়। এ বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবির সমান্তরাল ভাবে ২১ জুলাই পালন করছে। ফেসবুক লাইভে এ প্রসঙ্গে মমতা বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন, ‘শহিদ পরিবারকে পুলিশ থেকে ফোন করে বলা হচ্ছে–– এদিকে নয়, ওদিকে যাও। মানে বিজেপির স্পনসর্ড বালিশের দিকে যাওয়া। তাহলে অনেক টাকার উপহার দেওয়া হবে।’ শহিদ পরিবারের সদস্যরা কোন মঞ্চে থাকবেন এটা তাঁদের সিদ্ধান্ত বলে মমতা মনে করলেও তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে ওই পরিবারগুলিকে নানা ভাবে সাহায্য করা হয়েছিল বলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন। মমতার কথায়, ‘৪০ বছর ধরে পরিবারগুলির পাশে রয়েছি। ওদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। ২১ জুলাই–এর শহিদদের জন্য ফান্ড তৈরি হয়েছিল। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় চেয়ারম্যান ছিলেন। মানুষ যা জমা করেছিলেন তা শহিদ পরিবারকে দেওয়াও হয়েছে।’

    যদিও বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘মেয়ো রোডে ২১ জুলাই–এর সভায় কোনও নাচ–গান হবে না। সেলিব্রিটিরা থাকবেন না। মঞ্চের সামনের সারিতে শহিদ পরিবারের সদস্যরা থাকবেন, নেতারা থাকবেন পিছনে। শহিদ পরিবারের লোকেরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই আসবেন। এটা বুঝতে পেরে অনেকে হতাশ হয়ে নানা কথা বলছেন।’

    শহিদ পরিবারের সবাই যে এবার কালীঘাট শিবিরের মঞ্চে নাও থাকতে পারেন তার ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা। ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের ভুল বুঝছি না। অনেকে ঘেরাটোপে আছেন। এই বছর না থাকলেও আমাদের হৃদয় জুড়ে আপনারা আছেন।...২১ জুলাই নতুন পথ চলা শুরু হবে, কে আসল––কিছু এসে যায় না। যাঁরা থাকলেন, তাঁরা স্বর্ণখনি।’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুধবার যে ফেসবুক লাইভ করেছেন, সেখানেও তিনি নিচুতলার কর্মীদের সোনার খনি বলেছেন। যদিও ঋতব্রতর কটাক্ষ, ‘ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্প্রতি ফ্রিজ হয়েছে। ইডি এই বিষয়ে সক্রিয় হয়েছে। কিন্তু যে অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা, তার তো বার্ষিক সুদ রয়েছে। সেই সুদের অর্থ কার জন্য খরচ হয়েছে? ওঁর সত্যিই সোনার খনি রয়েছে। ওই খনি উনি বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।’ মমতা এ দিন ফেসবুক লাইভে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাঘ’ বলে উল্লেখ করলেও ঋতব্রত ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে বাঘরোলের সঙ্গে তুলনা করেন।

    মেয়ো রোডে ২১ জুলাই–র সভায় শহিদ স্মরণকে মূল ফোকাস করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণে থাকা তৃণমূলের তহবিলের খরচ কী ভাবে হয়েছে, সেই প্রশ্ন ওই সভায় তোলা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ঋতব্রত। নিচুত‍লার তৃণমূলে কর্মীদের জন্য এই টাকা খরচ হয়েছে, নাকি চাটার্ড বিমানের জন্য খরচ হয়েছে? এই প্রশ্নও সেখানে তোলা হবে। বিদ্রোহী শিবির ২১ জুলাই–র প্রস্তুতি হিসেবে বৃহস্পতিবার ফের বৈঠক করেছেন। ওই শিবিরের অন্যতম নেতা আখরুজ্জমানের দাবি, ‘আমরা এখনও পর্যন্ত ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত করার টার্গেট করেছি। দূরের জেলা থেকে যাঁরা আসবেন, তাঁদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অতিথি নিবাস সহ কাকে কোথায় রাখব, তা নিয়ে আলোচনা করেছি।’ নেতাজি ইন্ডোরের মতো বড় কোনও জায়গায় দূরের জেলা থেকে কর্মী–সমর্থকদের রাখা নিয়েও আলোচনা চলছে।

    এ দিকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন নথি জমা দেওয়ার জন্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দিয়েছে৷ কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে নিশানা করে সোচ্চার হয়েছে মমতা পন্থী তৃণমূল শিবির৷ এই মর্মে তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েনের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা অফিসের মতো কাজ করছে৷ সূত্রের দাবি, নির্বাচন কমিশনের তরফে যেভাবে নথি জমা দেওয়ার জন্য ঋতব্রত গোষ্ঠীকে দু’বার অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে সেই অবস্থানের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা যায় কী না, সে বিষয়ে ভাবতে শুরু করেছে মমতাপন্থী তৃণমূল শিবির৷

  • Link to this news (এই সময়)