ন্যাশনাল টিমে ট্রায়ালের সুযোগ মিলেছিল কয়েক দিন আগেই। আনন্দে ভাসছিল গোটা পরিবার। কিন্তু তার পরেই রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে গেল রাজ্যস্তরের প্রতিভাবান রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেন (১৫)। বৃহস্পতিবার কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিল। হাওড়া স্টেশনে শেষ বার দেখা গিয়েছে তাকে। তার পরে আর কোনও খোঁজ নেই। ইতিমধ্যেই হাওড়া থানায় নিখোঁজ ডায়রি করেছে দময়ন্তীর পরিবার। তার খোঁজে চলছে জোরদার তল্লাশি। ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে পরিবার, সতীর্থ এবং ক্রীড়ামহলে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্য হাওড়ার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনে বাড়ি দময়ন্তীর। অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকারের কাছে প্র্যাকটিস করত। কয়েক দিন আগেই জাতীয় দলে ট্রায়ালের সুযোগ পায়। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, খুব খুশি হয়েছিল দময়ন্তী। আনন্দে ভাসছিল গোটা পরিবারই। বৃহস্পতিবার সকালে কেনাকাটা করতে বেরিয়ে উধাও হয়ে যায় কিশোরী।
দময়ন্তীর পরিবারের সূত্রে জানা গিয়েছে, শেষ বার তাকে হাওড়া স্টেশনে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। পরনে ছিল একটি গোলাপি রঙের হাফ টি-শার্ট আর হাফ প্যান্ট। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ৪-৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ধরে হাঁটছে দময়ন্তী। কিন্তু তার পরে নিখোঁজ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই কিশোরীর খোঁজে জোরদার তল্লাশি শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রায় ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও কোনও হদিশ মেলেনি।
ন্যাশনাল টিমে ট্রায়ালের সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই মেয়ে জোরদার অনুশীলন শুরু করে দিয়েছিল বলে জানালেন বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন। প্রতিদিন ভোরে অনুশীলন থাকত। তাই রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ত দময়ন্তী। তার মোবাইল ফোনও বাড়িতেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার সকালে এই সময় অনলাইনকে দময়ন্তীর মা মৌমিতা সেন বলেন, ‘শ্রীরামপুর থেকে একজন ফোন করেছিলেন। মাহেশের রথে দময়ন্তীকে তাঁরা দেখেছেন। সেখানে খোঁজ চলছে।’
পরিবারের দাবি, বাড়িতে কোনও ঝামেলা-অশান্তি হয়নি। ফলে হঠাৎ দময়ন্তীর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ধন্দে সকলেই। ঘটনার পরেই হাওড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে দময়ন্তীর পরিবার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কিশোরী শুটারের খোঁজ চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কিশোরীর দ্রুত সন্ধান মিলবে বলেই আশাবাদী পরিবার।