• নিমেষে পড়ুয়া বোঝাই স্কুলবাসকে পিষে দিল ডাউন লোকাল!
    আজকাল | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাতসকালে স্কুলে যাচ্ছিল, অন্যান্য দিনের মতোই। খোলা রেলগেট দিয়ে পেরোচ্ছিল পুলকার। সব বদলে গেল চোখের পলক ফেলার আগেই। মাঝরাস্তায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল একের  পর এক পড়ুয়ার।  শুক্রবার সকালে মুর্শিদাবাদের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া। উঠছে একাধিক প্রশ্নও। নিশানায় রেলের গেটম্যান। তাঁর বিরুদ্ধে গাফিলতির  অভিযোগ তুলছেন স্থানীয়রা। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় আরও একজনের। বাকি ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    স্থানীয় সূত্রে খবর, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সকাল সাতটা নাগাদ, বহরমপুর থানার অন্তর্গত কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝের একটি লেভেল ক্রসিংয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বেসরকারি স্কুলের পুলকারে ৮ জন ছাত্র ছিল। প্রতিদিনের মতোই তারা স্কুলে যাচ্ছিল।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, প্রথমে আপ লাইনে একটি ট্রেন যাওয়ার পর গেটম্যান রেলগেট তুলে দেয়। সেই সময় পুলকারটি লাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই উল্টো দিক থেকে তীব্র গতিতে চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন। অভিযোগ, ততক্ষণে উল্টো দিকের গেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গাড়িটির এগোনো বা পিছোনোর কোনও রাস্তা ছিল না। চলন্ত ট্রেন সজোরে ধাক্কা মারে পুলকারটিতে। ধাক্কার অভিঘাতে গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে  যায়।

    ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। তাঁরাই আহত ছাত্রদের উদ্ধার করে প্রথমে কর্ণসুবর্ণ ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা অবস্থা গুরুতর দেখে তাদের দ্রুত মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় আরও এক ছাত্রের মৃত্যু হয়।

    নিহতদের মধ্যে রয়েছে ভরতপুর থানা এলাকার বাসিন্দা ইসানুর রহমান। সে ওই বেসরকারি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। ইসানুরের ঠাকুমা শবরুন্নেশা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, 'আমার নাতি প্রতিদিন পুলকারে করেই স্কুলে যায়। সকালে শুনলাম রেলগেটে দুর্ঘটনা। লোকজন বলছে, কিছুক্ষণ আগে একটা ট্রেন যাওয়ার পর গেট খুলে দেওয়া হয়েছিল। তারপর গেটম্যান পরের ট্রেন আসার সময় গেট ফেলতে ভুলে যায়। এখন আমার নাতি মুর্শিদাবাদ মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।'

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বহরমপুর থানার পুলিশ ও রেলের আধিকারিকরা। পুলকারটি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, রেলের গেট খোলা থাকলে সিগন্যাল লাল থাকার কথা। সেক্ষেত্রে ট্রেন চালক কি সিগন্যাল উপেক্ষা করে ট্রেন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে? যদিও এই বিষয়ে অভিযোগ উঠে এলেও, নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে রেল কর্তৃপক্ষ।

     
  • Link to this news (আজকাল)