• প্রণামি বাক্সের চাবি রাখতেন চম্পত রাইয়ের গাড়ির চালক, রাম মন্দিরকাণ্ডে সিট-এর রিপোর্ট শীঘ্রই
    বর্তমান | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শুধু যে নিয়ম করে নিজেদের বাছাই ও নিয়োগ করা কর্মীদের দিয়েই প্রণামির দানবাক্স প্রতিদিন রাতে গণনা করানো হত, তাই নয়। অযোধ্যার রামমন্দির তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সদ্য প্রাক্তন সম্পাদক চম্পত রাইয়ের গাড়ির চালক টিন্নু যাদবের কা঩ছেই থাকত তাবৎ প্রণামি বাক্সের চাবি। সিট তাদের তদন্তে এই তথ্য পেয়েছে। এই চাবি প্রত্যেকদিন জমা করে দেওয়ার কথা ট্রাস্টের ট্রেজারি দপ্তরে। 

    এখানেই শেষ নয়। রামমন্দির উদ্বোধনের পর থে঩কেই কারা কোন কাজ করবে, সেই  ডিউটি ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত ও বিশ্বস্ত স্থায়ী কর্মীদের প্রণামির বাক্সে জমা পড়া টাকা গণনার কাজ থেকে সরিয়ে বেসরকারি সিকিউরিটি এজেন্সির কর্মীদের কাজে লাগানো হয়েছিল।  যাদের কাজ ছিল  মন্দিরের সুরক্ষা প্রহরা, তারাই প্রণামী বাক্স থেকে নিয়মিত টাকা সরিয়েছে। এসআইটির তদন্ত সমাপ্ত হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে সিটের তদন্ত রিপোর্ট আজকালের মধ্যেই জমা দেওয়া হবে। উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য জানিয়েছেন, আমরাও অপেক্ষা করছি সিট রিপোর্টের। 

    এসআইটি মনে করছে, বাছাই করা কয়েকজনের মাধ্যমেই এই প্রণামি বাক্সের চুরি হয়েছে, এমন হতে পারে না। তাই তদন্ত তারা চালিয়ে যাবে। আর সরকারের কাছে সুপারিশ করছে যাতে প্রণামি বাক্স গণনার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া হয়, প্রশাসনিক কাঠামো বদলে ফেলা হয় এবং গণনার কাজ ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়। ঩সেই রেকর্ডিং নিয়ম করে ট্রাস্টের দপ্তরে জমা করতে হবে। ৯ পৃষ্ঠার প্রাথমিক রিপোর্ট আগেই জমা হয়েছে। এরমধ্যে সুপ্রিম কোর্টও স্ট্যাটাস রিপোর্টে চেয়েছে সিটের কাছে। রিপোর্ট জমা হলেও কেন্দ্রীয় সরকার তদন্ত চালিয়ে যেতে চায়। উত্তরপ্রদেশ সরকার চাইলে তদন্তভার নেবে সিবিআই।  যদিও রামমন্দির ট্রাস্টের ট্রেজারার মোহন্ত গোবিন্দ গিরি মহারাজ জানিয়েছেন, আমরা সিটের তদন্তে সন্তুষ্ট। সঠিক দিশায় তদন্ত চলছে। অন্যদিকে  বিরোধীরা বলেছে, অনেক রাঘব বোয়ালকে আড়াল করতেই সিট এখনও পর্যন্ত ৮ জনের বেশি আর  কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারল না। এটা বিস্ময়কর। উপরমহলের বরাভয় ও প্রশ্রয় না থাকলে  হাই প্রোফাইল রামমন্দিরে চুরি করার সাহস এত নীচুতলার কর্মীদের হতে পারে না।
  • Link to this news (বর্তমান)