• মাল্টি অর্গান ফেলিওর হতে পারে অচিরেই, আশঙ্কায় চিকিৎসকরা, যেভাবে হোক সোনামকে বাঁচান, কেন্দ্রকে নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের
    বর্তমান | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দাবি একটাই—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চাই। নিট-ইউজির প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে বিগত ১৯ দিন ধরে দিল্লির যন্তরমন্তরে অনশন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনাম ওয়াংচুক। লাদাখের এই সমাজকর্মীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। ওজন কমেছে ৯ কেজি। চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন যে, এভাবে চললে যে-কোনো সময় সোনামের মাল্টি অর্গান ফেলিওর বা শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হতে পারে। এই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট— ‘যেভাবেই হোক সোনামকে বাঁচান। প্রত্যেক মানুষের জীবন মূল্যবান।’ নরেন্দ্র মোদি সরকার অবশ্য তাতেও নির্লিপ্ত। ককরোচ জনতা পার্টির অভিযোগ, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা তো দূরঅস্ত, নরেন্দ্র মোদি সরকারের কোনো আধিকারিক এবিষয়ে কথা পর্যন্ত বলছেন না। তিল তিল করে সোনামকে যেন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে চাইছে কেন্দ্র। যদিও এদিন হাইকোর্টের নির্দেশের পর এই ইস্যুতে সরকার নরম হচ্ছে বলেই সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, কোনো রাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনশন মঞ্চে পাঠানোর ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। আগামী ২০ জুলাই, সোমবার সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। তার আগেই সোনামের সঙ্গে কথা বলতে কোনো রাষ্ট্রমন্ত্রী যেতে পারেন বলেও জল্পনা চরমে। তাহলে কি সোনামের লাগাতার অনশনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে মোদি সরকার?

    আগামী সোমবার সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সেই কর্মসূচি নিয়ে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন সোনাম। বলেছেন, ‘দু’-চারদিনে আমি মরে যাব না। আমার শরীর অত্যন্ত দুর্বল ঠিকই। পেশিতেও তেমন জোর নেই। তবুও আমার লড়াই চলবে। অনশন ভাঙার জন্য অনুরোধ না করে প্রত্যেকে বরং ২০ জুলাইয়ের মিছিলে যোগ দিন।’ এদিন যন্তরমন্তরের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাশাপাশিই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইস্তফার দাবিও উঠেছে। মোদি সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে ক্রমেই সোনামের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্র বিরোধিতায় এককাট্টা হচ্ছে বিরোধীরা। 

    এদিন যন্তরমন্তরে সোনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আম আদমি পার্টি (আপ) সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদবরা। কেজরিওয়াল দাবি করেছেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিন। পরিবর্তে সোনাম ওয়াংচুককে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী করা হোক।’ অনশনরত সোনামের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল দিল্লি হাইকোর্টে। এদিন সেই মামলায় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, ‘সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে প্রতিদিন সোনামের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। এব্যাপারে যে পদক্ষেপ করা প্রয়োজন, তা অবিলম্বে করতে হবে।’ কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হচ্ছে। সোনামের চিকিৎসক ডাঃ সতীশ লাম্বা জানিয়েছেন, ‘১৯ দিনে ৯ কেজি ১০০ গ্রাম ওজন কমেছে ওয়াংচুকের। ওজন দাঁড়িয়েছে ৫৬ কেজি ৯০০ গ্রামে। রক্তচাপ আরও কমে হয়েছে ১০১/৬৫। তবে মানসিকভাবে সচেতন রয়েছেন সোনাম।’
  • Link to this news (বর্তমান)