দেড়শো বিঘা জমি তৃণমূলের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ঝান্ডা লাগাল বিজেপি
বর্তমান | ১৭ জুলাই ২০২৬
সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: মাথাভাঙা-১ ব্লকের নয়ারহাট পঞ্চায়েতের মানসাই নদীর চরের প্রায় দেড়শো বিঘা জমি তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বিজেপির ঝান্ডা লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে চরে যান বাসিন্দারা। গোটা চরে লাগানো হয় বিজেপি ঝান্ডা।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এলাকার গরিব মানুষের মধ্যে জমি বণ্টন করে দেওয়া হবে। যদিও এলাকার রাজনৈতিক সচেতন বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তৃণমূলের সময়কালে ওই চরের জমি যেমন নেতারা দখল করেছিলেন, একই কায়দায় বিজেপিও জমি দখল করল ঝান্ডা লাগিয়ে। আদৌ গরিব মানুষ জমি পাবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
প্রসঙ্গত, একসময়ের চাষের জমি মানসাই নদীর ভাঙনে নদীগর্ভে চলে যায়। বিগত বাম আমলে জেগে উঠতে শুরু করে চর। নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের পানিগ্রাম, পূর্ব গিলাডাঙা ও নিত্যানন্দী এলাকায় পড়েছে চর এলাকাটি। মাঝখান দিয়ে বয়ে গিয়েছে একটি নালা। তৃণমূল আসার আগেই ওই চরে কাশবন ছেয়ে যায়। স্থানীয় একটি ক্লাবের উদ্যোগে প্রায় ৮০ বিঘা জমি চাষযোগ্য করে তোলা হয়। অভিযোগ, ক্লাব সেই জমি লিজ দেওয়া শুরু করতেই তাতে নজর পড়ে তৃণমূল নেতাদের। তৃণমূলের ঝান্ডা লাগিয়ে জমির দখল নিয়েছিলেন তৃণমূল নেতারা। এবার পালাবদলের পর সেই জমিতে ঝান্ডা লাগিয়ে দিল বিজেপি।
স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা ক্লাবের সম্পাদক তপনকুমার বর্মন বলেন, আমরা ক্লাবের তরফে চরের জমি চাষযোগ্য করে তুলেছিলাম। স্থানীয় কয়েকজন কৃষককে একটি অংশ দেওয়া হয়েছিল। বাকি অংশ আমরা লিজে দিয়েছিলাম। তৃণমূল নেতারা সেই জমি দখল করে নিজেরা ভোগ করেছে এতদিন। এখন রাজ্যে পালাবদল হয়েছে, ওই জমি পুনরায় দখল করে স্থানীয় গরিব কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
স্থানীয় বিজেপি গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা বীনা অধিকারীর স্বামী রমানাথ অধিকারী বলেন, তৃণমূলের লোকজন জমি দখল করে রেখেছিল। ওরা নিজেরা অবস্থাপন্ন হওয়ায় অন্যকে জমি লিজ দিয়ে টাকা নিত। আমরা জমি প্রকৃত গরিব মানুষের হাতে তুলে দেব। যদিও স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বসন্ত বর্মন এনিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। • নিজস্ব চিত্র।