• কাটতে চলেছে বেলিয়াতোড়-দুর্গাপুর ও ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেলপথের জট, বাঁকুড়ায় ১১টি জায়গায় লেভেল ক্রসিং উঠিয়ে আন্ডারপাস হবে
    বর্তমান | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বেলিয়াতোড়-দুর্গাপুর ও ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেলপথের জট শীঘ্রই কাটতে চলেছে। বুধবার বিকালে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন, ভূমি ও বনদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে রেলের আদ্রা ডিভিশনের আধিকারিকরা বৈঠক করেন। সেখানে রেলপথ নির্মাণের পথে বাধা নিয়ে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই সব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন রেলকে সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাঁকুড়া জেলায় নতুন ১১টি জায়গায় লেভেল ক্রসিং উঠিয়ে রেলদপ্তর আন্ডারপাস করবে। তারজন্য জেলা প্রশাসনের কাছে ছাড়পত্র(এনওসি) চাওয়া হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত এব্যাপারে রেলকে এনওসি দেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। 

    জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, বেলিয়াতোড়-বড়জোড়ার জঙ্গলে হাতির করিডর বাঁচিয়ে রেলপথ নির্মাণ হবে। বাঁকুড়া-মশাগ্রাম শাখার বেলিয়াতোড় স্টেশন থেকে জঙ্গলের পাশ দিয়ে বড়জোড়া হয়ে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন পাতা হবে। ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেলপথের প্রস্তাবিত এলাকা ফের সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে। ওই রেলপথের কাজও অদূর ভবিষ্যতে শুরু হবে। 

    রেল ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেলপথের জন্য ২০০৭ সাল থেকে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়। ওই  প্রকল্পের জন্য মোট ৭৭০একর জমি প্রয়োজন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪৮১একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তারপর থেকে প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে। রেলের তরফে আর অর্থ বরাদ্দ সেভাবে করা হয়নি। তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারও ওই রেললাইন নিয়ে তৎপরতা দেখায়নি। তারপর কেন্দ্র-রাজ্য সঙ্ঘাতের কারণে রেল প্রকল্প বিশ বাঁও জলে চলে যায়। বৃহস্পতিবার বৈঠকে রেলের আধিকারিকরা বর্তমানে প্রকল্প এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের কাছে খোঁজ নেন। বাকি জমির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি অধিগৃহীত জায়গায় কোনো জবরদখল রয়েছে কি না, তা প্রশাসন দেখবে বলে আধিকারিকরা রেলকে আশ্বস্ত করেছেন। 

    প্রস্তাবিত বেলিয়াতোড়-দুর্গাপুর রেলপথের দৈর্ঘ্য হবে ৩৫ কিলোমিটার। বেলিয়াতোড় ও বড়জোড়া রেঞ্জ এলাকায় সিংহভাগই বনদপ্তরের জায়গা। দলমা থেকে হাতির দল ওই পথে বড়জোড়ার সাহারজোড়া ও আশাপাশের জঙ্গল যাতায়াত করে। হাতির পাশাপাশি জঙ্গলে অন্যান্য বন্যপশুও রয়েছে। ফলে বনদপ্তরের তরফে রেলপথ নির্মাণ নিয়ে বেশকিছু বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। রেলের আধিকারিকরা বৈঠকে জানিয়েছেন, ওই রেলপথ নির্মাণের জন্য সমীক্ষার কাজ হয়ে গিয়েছে। যে কোনো রেলপ্রকল্প নির্মাণের আগে লাভের বিষয়টি মন্ত্রক মাথায় রাখে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের জন্য লোকালয়ের কাছাকাছি রেল স্টেশন থাকলে ভালো হয়। ফলে জঙ্গল এড়িয়ে বেলিয়াতোড় থেকে পখন্না হয়ে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন পাতা হতে পারে। সেক্ষেত্রে দামোদর নদের উপর নতুন সেতু তৈরি করতে হবে। ওই দুই রেলপথের পাশাপাশি খানা-বোঁয়াইচণ্ডী সহ বিডিআর ও পূর্ব রেলের মধ্যে সংযোগস্থাপনকারী অন্যান্য প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার দাবিও উঠেছে।
  • Link to this news (বর্তমান)