গঙ্গাসাগরকে ‘জাতীয় মেলা’ ঘোষণা ও অন্যতম ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে কেন্দ্রকে জোড়া চিঠি নবান্নের
বর্তমান | ১৭ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’র স্বীকৃতি দেওয়া এবং দেশের অন্যতম ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে কেন্দ্রকে দু’টি চিঠি পাঠাল নবান্ন। ক্ষমতায় এসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, গঙ্গাসাগরকে জাতীয় স্তরের ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে কেন্দ্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করা হবে। সূত্রের খবর, গত মঙ্গল ও বুধবার এই আরজি জানিয়ে কেন্দ্রের দু’টি মন্ত্রকের (সংস্কৃতি মন্ত্রক ও পর্যটন মন্ত্রক) সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে নবান্ন।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, গঙ্গাসাগর মেলা ভারতের প্রাচীন, বৃহৎ এবং ঐতিহাসিক ধর্মীয় সমাবেশগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এই মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও লক্ষ লক্ষ ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী ও পর্যটক হাজির হন। ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং শতাব্দীপ্রাচীন তীর্থযাত্রার ধারাকে এই মেলা আজও বহন করে চলেছে। গঙ্গাসাগর মেলার এই ব্যাপকতা এবং ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার কথা মাথায় রেখেই একে ‘জাতীয় মেলা’র মর্যাদা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রককে। গঙ্গাসাগর মেলার আর্কাইভ সংরক্ষণ, লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার প্রসার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার মতো কাজগুলির জন্য কেন্দ্রের সহযোগিতা চাওয়ার পাশপাশি আর্থিক সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।
পর্যটন মন্ত্রককে দেওয়া চিঠিতে কেন্দ্রের ‘প্রসাদ’ প্রকল্পের আওতায় গঙ্গাসাগরকে একটি প্রধান ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পর্যটন সচিব সৌমিত্র মোহনের স্বাক্ষরিত দু’টি চিঠিতে দেওয়া প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি গঙ্গাসাগর দেশ-বিদেশের পর্যটকদের জন্য আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছে রাজ্যের প্রশাসনিক মহল।