বছর পেরিয়ে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে ডিএমের অনুমতি গ্রহণ জরুরি
বর্তমান | ১৭ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তির ক্ষেত্রে বড়ো পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। এই প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল এবং ডিজিটাল উপযোগী করে তুলতে ওয়েস্ট বেঙ্গল রেজিস্ট্রেশন অব বার্থ অ্যান্ড ডেথ (অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস নিয়ে এল রাজ্য। এর জেরে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদনপত্রে নামের কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ বা আদ্যক্ষর ব্যবহার করা যাবে না। আবার, জন্ম বা মৃত্যুর একবছর পর আবেদন করলে প্রয়োজন পড়বে জেলাশাসকের লিখিত অনুমতি। বিলম্বের কারণ জানিয়ে আবেদনকারীকে মুচলেকাও জমা দিতে হবে। সেটি সত্য কি না তা যথানিয়মে যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট অফিসার। একই সঙ্গে, হাসপাতালের বাইরে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে ডেথ সার্টিফিকেট দেবেন মেডিকেল কাউন্সিল স্বীকৃত এম বি বি এস পাশ কোনো চিকিৎসক অথবা রাজ্যে নিবন্ধিত কোনো আয়ুষ ডাক্তার। এর ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ যাচাই করা সহজ হবে এবং ভুয়ো শংসাপত্র প্রদানের সম্ভাবনা কমবে। একই সঙ্গে এতদিন যে শংসাপত্রের জন্য ২ টাকা এবং কিছু ক্ষেত্রে ৫ টাকা ফি নেওয়া হত, তা বাড়িয়ে যথাক্রমে ২০ টাকা ও ৫০ টাকা করা হয়েছে।
সংশোধিত রুলের কারণে ঠিকানা হিসাবে শুধুমাত্র গ্রাম বা শহরের নাম নয়, রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, জেলা, মহকুমা, শহর বা গ্রাম, ওয়ার্ড নম্বর (যেখানে প্রযোজ্য), এলাকার নাম, বাড়ি নম্বর এবং পিন উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সংশোধনীর ফলে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ডিজিটাল মাধ্যমে সংগ্রহের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে। তবে এবার থেকে জন্ম বা মৃত্যুর ৩০ দিন পরে কিন্তু একবছরের মধ্যে জানানো হলে জেলা রেজিস্ট্রার বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি নিয়ে ৫০ টাকা ‘লেট ফি’ জমা দিতে হবে। আর একবছরের বেশি কিন্তু দু-বছরের মধ্যে আবেদন করা হলে জেলাশাসক, মহকুমা শাসক অথবা এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অনুমোদন দিলে তবেই কাজ এগোবে। সেক্ষেত্রে দিতে হবে ১০০ টাকা লেট ফি। আর দু-বছরেরও বেশি সময় পরে আবেদন করলে বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছাড়া নিবন্ধন করা যাবে না।