নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রথমে সম্পত্তি কিনেছিলেন। তারপর জাল নথি তৈরি করে ঋণের বিষয়টি চেপে গিয়ে বিক্রি করেছিলেন ভিন রাজ্যের এক বাসিন্দাকে। এভাবেই নিউ আলিপুর, সল্টলেক সহ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় কোটি টাকার সম্পত্তি করেছিলেন অভিযুক্ত। শেষ পর্যন্ত লালবাজার গ্রেপ্তার করেছে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে। ধৃতের নাম সুভাষকুমার মুখোপাধ্যায়। তাঁর কাছ থেকে মিলেছে জমি সংক্রান্ত একাধিক নথি।
লালবাজার সূত্রে খবর, নিউ আলিপুর এলাকায় পাঁচ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন তিনি। এ কারণে গড়িয়াহাট এলাকার একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে তিন কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ওই ফ্ল্যাটের অন্দরের দেওয়াল ভেঙে আলাদা আলাদাভাবে তিনটি ফ্ল্যাট তৈরি করেন। সেগুলি বিক্রি করেন দিল্লির তিনজনকে। অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার যে ঋণ নিয়ে এই ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, তা তাঁদের কাছে গোপন করে যান। কিস্তির টাকা ব্যাংকে জমা না পড়ায় তারা খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারে, ওই ফ্ল্যাট হাতবদল হয়ে গিয়েছে। দিল্লির যাঁরা ফ্ল্যাটগুলি কিনেছিলেন, তাঁরাও আবার ঋণ পেয়েছেন। এরপরই ব্যাংকের তরফে গড়িয়াহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তভার হাতে নেয় লালবাজার।
গোয়েন্দা বিভাগ তদন্তে নেমে দেখে, অভিযুক্তের নামে একাধিক ঋণ রয়েছে। কোনো ঋণই কোটি টাকার নীচে নয়। সব ক্ষেত্রেই ঋণের কিস্তি বকেয়া রয়েছে। এরপর অভিযুক্ত সুভাষকে সল্টলেক থেকে কয়েকদিন আগে গ্রেপ্তার করে লালবাজার। তাঁকে জেরা করে জানা যায়, তিনি পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ব্যাংক ঋণ নিয়ে সম্পত্তি কেনার ফন্দি এঁটেছিলেন এই সুভাষ। তারপর ফ্ল্যাটের জাল নথি তৈরি করে ফের তা বিক্রি করে মোটা টাকা লাভের আশা করেছিলেন তিনি। বিভিন্ন ব্যাংকের পদাধিকারীদের একাংশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল তাঁর। তাই কিস্তি বকেয়া থাকলেও নতুন ঋণ পেতে কোনো অসুবিধা হয়নি। এভাবেই তিনি গড়িয়াহাট, নিউ আলিপুর, সল্টলেক সহ বিভিন্ন জায়গায় ফ্ল্যাট কেনাবেচা করে বিপুল টাকা লাভ করেছেন। এই চক্রে ব্যাংকের কারা কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।