• ‘স্কুলে যাচ্ছিল, কী ভাবে যে অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে গেল...’, হাসপাতালে হাউহাউ করে কান্না আহত পড়ুয়ার ঠাকুমার
    এই সময় | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • রেল লাইনের ধারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে নীল-গোলাপি স্কুল ব্যাগ, জলের বোতল। কয়েকটা ছেড়া জুতো কুড়িয়ে রাখছেন এক যুবক। দোমড়ানো স্কুল গাড়িটি এখনও লাইনের উপরে আড়াআড়ি ভাবে দাঁড়িয়ে। তাকে ঘিরে ভিড় করে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কর্ণসুবর্ণ স্টেশন এবং গোবিন্দপুর রেলগেটের মাঝে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দুই স্কুল পড়ুয়া-সহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার তদন্তে হাওড়া স্টেশন থেকে রওনা দিয়েছেন ১০ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল।

    মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সামনে ভিড় জমিয়েছেন আহত স্কুল পড়ুয়াদের আত্মীয়রা। এখানে জখম তিন জন পড়ুয়া এবং গাড়ির চালককে ভর্তি করা হয়েছে। এমার্জেন্সির সামনে উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে বাড়ির লোকেরা। কেউ কাঁদছেন, কেউ শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে। ওয়ার্ডের বাইরে আঁচলে মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে বদরুন্নেসা বিবি। তাঁর নাতি ইশানুর রহমান ভর্তি রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। গাড়িতে ছিল সে-ও। বদরুন্নেসা বলেন, ‘ছোট ছেলে। স্কুলে যাচ্ছিল। কী ভাবে যে অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে গেল...। অবস্থা খুব সুবিধার নয়।’

    গেটম্যানকেই কাঠগড়ায় তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চোখের সামনেই ট্রেনের ধাক্কায় স্কুল গাড়িটিকে দুমড়ে মুচড়ে যেতে দেখেছেন কর্ণসুবর্ণের স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘হাওড়া-নবদ্বীপ এক্সপ্রেস চলে যাওয়ার পরেই গেটম্যান লেভেল ক্রসিং খুলে দেন। এটা মোটেই উচিত হয়নি।’ গেটম্যান নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্ণসুবর্ণ স্টেশন এবং গোবিন্দপুরের মাঝের রেল গেট বন্ধ ছিল। অভিযোগ, হাওড়া-নবদ্বীপ এক্সপ্রেস চলে যাওয়ার পরেই গেটম্যান ক্রসিং খুলে দেন। গেট খোলা দেখে বেশ কয়েক জন স্কুল পড়ুয়াকে নিয়ে একটি গাড়ি নিয়ে রেল লাইন পার হচ্ছিল। তখনই তীব্র গতিতে চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল, পিষে দিয়ে চলে যায় স্কুল ভ্যানকে। ঘটনাস্থলেই দুই পড়ুয়ার মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে প্রাণ হারান আরও এক পড়ুয়া। ঘটনায় আরও ৪ জন আহত বলে জানা গিয়েছে।

    ইতিমধ্যেই কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ। সাসপেন্ড করা হয়েছে সুপারভাইজ়ারকে। ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন এডিআরএম-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী দল। মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে পূর্ব রেল। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারও ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা জানিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)