• ফ্রি ফ্রি ফ্রি... রথের মেলায় বস্তা বস্তা ঝালমুড়ি শেষ হয়ে গেল নিমেষে! মেলে আরও অনেক খাবার
    News18 বাংলা | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • বিনামূল্যে খাবার ও আন্তরিকতার এক অনন্য মিলনক্ষেত্র ! দেউলপুর পঞ্চাননতলায় অনুষ্ঠিত রথের মেলা আজ শুধু একটি সাধারণ ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং মানুষের আনন্দ ও মেলবন্ধনের এক পরম ক্ষেত্র। যেখানে রথের মেলা মানেই কেনাকাটা আর অতিরিক্ত খরচের ভিড়, সেখানে এই মেলার আকর্ষণ সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে মেলায় আসা সব দর্শনার্থীর জন্যই মেলে একদম বিনামূল্যে ঝালমুড়ি, গরম কফি, মুচমুচে পাপড় ভাজা, মিষ্টি বোঁদে ও জল-বাতাসার শরবত এবং লজেন্স।

    আশেপাশের ৫-৭টি গ্রামের শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবার কাছেই এই উৎসব এখন পরম আনন্দের। গ্রামের মানুষকে রথের দড়ি টানতে এবং রথের মেলা উপভোগ করতে হলে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে যেতে হয়। তাই রথের দড়ি টেনে পুণ্য লাভ করার সুযোগ করে দিতে নিজের গ্রামে একটি রথের মেলা আয়োজন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন গ্রামের যুবক বরুণ মালিক। কিভাবে সেই রথের উৎসবে গ্রামের সমস্ত মানুষকে শামিল করবেন সেই চেষ্টাও করলেন। তিনি নিজে চেষ্টায় নতুন রথ তৈরি করেন এবং মেলায় আসা শিশুদের মন আকৃষ্ট করতে খাবার বিতরণ শুরু করেন।

    তাঁর সেই আন্তরিক চেষ্টাই আজ দেউলপুরকে দিয়েছে এই বিশেষ পরিচিতি। ৮০ থেকে ১০০ কেজি মুড়ি আর অফুরন্ত আন্তরিকতা। ধীরে ধীরে বিগত ১০ বছরে মেলায় বিনামূল্যে খাবারের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নিত্যনতুন পদ। প্রতিবছর বিকেল ৪ টে থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলা এই মেলায় বসান হয় বিশালাকার উনুন। সেখানে অবিরাম ভাজা হতে থাকে গরম গরম পাপড় আর বস্তা বস্তা মুড়ি দিয়ে তৈরি হয় প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কেজি সুস্বাদু মশলা মুড়ি। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এই মেলার খ্যাতি এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।

    যার ফলে দূর-দূরান্তের বহু মানুষ ছুটে আসছেন এই অভিনব উৎসবের সাক্ষী হতে। সম্প্রীতি ও একতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেউলপুরের এই মেলা প্রমাণ করে, কেবল সদিচ্ছা আর আন্তরিকতা থাকলেই হারিয়ে যাওয়া যেকোনও উপলক্ষ্যকে মিলনমেলায় রূপ দেওয়া সম্ভব। তাই প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী মেলার সঙ্গে দেউলপুর পঞ্চানন তলা রথের মেলা অল্পদিনে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। দেউলপুর সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন বিনামূল্যের রথের মেলা আসবে কবে, তার জন্য।
  • Link to this news (News18 বাংলা)