বর্ধমানের বুকেই দীঘা-পুরীর আমেজ, ফ্রিতে মিলছে ৩টি চারাগাছ! কোথায় যেতে হবে জানুন...
News18 বাংলা | ১৭ জুলাই ২০২৬
অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে বিশেষভাবে সেজে উঠেছে পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান রমনাবাগান জুলজিক্যাল পার্ক। বন সংরক্ষণ, পরিবেশ সচেতনতা এবং প্রকৃতির প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতার বার্তা তুলে ধরতেই পার্কজুড়ে তৈরি হয়েছে একাধিক পরিবেশবান্ধব শিল্পকর্ম। ফেলে দেওয়া বা প্রাকৃতিকভাবে ঝরে পড়া উপকরণ ব্যবহার করে শিল্পীরা ফুটিয়ে তুলেছেন নানা প্রাণী ও পাখির অবয়ব, যা সাধারণ মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে অন্যতম আকর্ষণ। ১৪ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে অরণ্য সপ্তাহ।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বনদফতরের উদ্যোগে চলছে বৃক্ষরোপণ ও বিনামূল্যে চারাগাছ বিতরণের কর্মসূচি। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই রমনাবাগান জুলজিক্যাল পার্কেও প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত আগত সাধারণ মানুষের হাতে তিনটি করে চারাগাছ তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু গাছ বিতরণ নয়, পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন শিল্পী একযোগে তৈরি করেছেন ল্যান্ড আর্ট, স্যান্ড আর্ট এবং পাবলিক আর্ট। ফেলে দেওয়া কাঠ, ডালপালা, শুকনো পাতা, বাঁশ, কাপড়সহ বিভিন্ন বর্জ্য উপকরণ ব্যবহার করে নির্মিত হয়েছে শেয়াল, বানর, ময়ূর, বিভিন্ন পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর শিল্পরূপ।
শিল্পীদের মূল বার্তা শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেই গাছ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্পী রঙ্গজীব রায় বলেন, অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে বন দফতরের উদ্যোগে হাজার হাজার চারাগাছ বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্পের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ল্যান্ড আর্ট, স্যান্ড আর্ট ও পাবলিক আর্টের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বর্জ্য উপকরণ ব্যবহার করে বিভিন্ন শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়েছে। তিনি জানান, বন ও বন্যপ্রাণী একে অপরের পরিপূরক। তাই গাছের শুকনো পাতা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে বিভিন্ন পাখি ও প্রাণীর অবয়ব নির্মাণ করা হয়েছে। এই শিল্প প্রদর্শনী ১৪ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এই উদ্যোগে মুগ্ধ সাধারণ মানুষও। বর্ধমান শহরের বাসিন্দা প্রিয়ব্রত দাসগুপ্ত এই প্রসঙ্গে বলেন, প্রবেশদ্বার থেকেই শুকনো শালপাতা ও ঝরে পড়া পাতার সাহায্যে তৈরি বিভিন্ন জীবজন্তুর শিল্পকর্ম দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে কোনও জিনিসই আসলে ফেলনা নয়। সামান্য শুকনো পাতা বা বর্জ্য উপকরণ দিয়েও যে এত সুন্দর শিল্প সৃষ্টি করা যায়, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। এছাড়াও পার্কে তৈরি স্যান্ড আর্ট দেখে তাঁর দীঘা বা পুরীর সমুদ্র সৈকতের শিল্পকর্মের কথা মনে পড়ে যায়। জুলজিক্যাল পার্কের মতো জায়গায় এমন অভিনব পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রদর্শনী তাঁকে অত্যন্ত আনন্দ দিয়েছে। অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে রমনাবাগান জুলজিক্যাল পার্কের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে শুধু আকৃষ্টই করছে না, বরং শিল্পের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কেও এক শক্তিশালী সামাজিক বার্তা তুলে ধরছে।