ট্রেনের ধাক্কায় পড়ুয়াদের মর্মান্তিক মৃত্যু, আজিমগঞ্জ-কাটোয়া লাইনে ব্যাহত রেল পরিষেবা
News18 বাংলা | ১৭ জুলাই ২০২৬
মুর্শিদাবাদ জেলার কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মধ্যবর্তী একটি লেভেল ক্রসিংয়ে সকাল সকাল ঘটে যায় এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এর জেরে আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখার আপ ও ডাউন উভয় দিকের একাধিক ট্রেন আটকে পড়ে এবং কাটোয়া স্টেশনে শতাধিক যাত্রী দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। ট্রেন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকায় যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। অনেকেই জরুরি কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনার খবর স্টেশনে পৌঁছতেই তাঁদের সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
কখন ট্রেন চলবে, আদৌ চলবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে অনেকেই বিকল্প পরিবহণের কথা ভাবতে শুরু করেছেন। কাটোয়ার বাসিন্দা অঞ্জনা নাগ লাহা জানান, তিনি সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের আজিমগঞ্জগামী ট্রেনে করে একটি ঠাকুরবাড়ি দর্শনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কাটোয়া স্টেশনে এসেছিলেন। কিন্তু স্টেশনে এসে জানতে পারেন, কর্ণসুবর্ণের কাছে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এরপর কী করবেন, কোথায় যাবেন কিংবা ট্রেন কবে চালু হবে, তা নিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় স্কুলপড়ুয়া শিশু-সহ একাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। তাঁর কথায়, “এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক। যদি কারও গাফিলতির জন্য এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এত বড় একটি দুর্ঘটনায় শিশুদের প্রাণ হারাতে হয়েছে, এর সঠিক কারণ খুঁজে বের করা রেলের দায়িত্ব।” আরও এক যাত্রী দেবতোষ দাস জানান, তিনিও আজিমগঞ্জে একটি ঠাকুরবাড়ি দর্শনের উদ্দেশ্যে স্টেশনে এসেছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনার খবর জানার পর থেকে ট্রেনের অপেক্ষায় রয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ কেটে গেলেও ট্রেন চালু হওয়ার কোনও নিশ্চয়তা না থাকায় প্রয়োজনে বাড়ি ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না বলেও তিনি জানান। অন্যদিকে বহরমপুরগামী যাত্রী সাকিল ইসলাম জানান, কাজের সূত্রে তিনি বর্ধমান থেকে ফিরছিলেন। সাধারণত এই ট্রেনেই তিনি নিয়মিত যাতায়াত করেন। কিন্তু কর্ণসুবর্ণের দুর্ঘটনার জেরে ট্রেন দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাস বা অন্য কোনও বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা করে বাড়ি ফিরতে হবে বলেও তিনি জানান।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কাটোয়া স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই ট্রেনে যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি যাত্রীদের দাবি, কীভাবে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। মুর্শিদাবাদের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জেরে একদিকে যেমন রেল পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, তেমনই চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন শত শত যাত্রী। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকা জুড়ে।