মুর্শিদাবাদে ট্রেনের ধাক্কায় চার স্কুল পড়ুয়া-সহ ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গেটম্যানকেই দুষলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, এটা দুর্ঘটনা নয়, হিউম্যান এরর। দুর্ঘটনার পরে সকালেই গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে বাঁকুড়ায় একটি কারখানার উদ্বোধনে গিয়ে সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বললেন, ‘গেটম্যান যা করেছেন, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।’
এ দিন সকালে পুলকারে স্কুলে যাচ্ছিল সাত জন পড়ুয়া। কর্ণসুবর্ণ স্টেশন এবং গোবিন্দপুরের মাঝের লেভেল ক্রসিংয়ে দাঁড়ায় তাঁদের গাড়ি। সেই সময়ে গেট বন্ধ ছিল। নবদ্বীপ-বালুরঘাট এক্সপ্রেস চলে যাওয়ার পরেই গেটম্যান ক্রসিং খুলে দেন বলে অভিযোগ। সেই সময়ে রেল লাইন পেরোতে যায় স্কুল ভ্যানটি। তখনই তীব্র গতিতে চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল, পিষে দেয় স্কুল ভ্যানটিকে। ঘটনাস্থলেই ফারহানা বেগম (৭) ও জেসিকা শবনমের (৮) মৃত্যু হয়। সেই সময়ে রেল লাইন পেরোচ্ছিলেন জামশেদ শেখ (৫০) নামে এক ব্যক্তি। ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান তিনিও। আহতদের ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। পরে সেখানে চিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ইশানুর রহমান (৫) ও তামান্না পারভিনের (৭)। এখনও চালক এবং দুই স্কুল পড়ুয়ার চিকিৎসা চলছে।
রাজ্য সরকার সব রকম ভাবে মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘ফুলের মতো ছোট ছোট ছেলেমেয়ে প্রাণ হারিয়েছে। কিছু বলার মতো ভাষা নেই। অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ পুরো বিষয়টা দেখভাল করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর পরেই গেটম্যানকে দুষে শুভেন্দু বলে দেন, ‘গেটম্যানের জন্যই এমন ঘটনা ঘটল। এটা হিউম্য়ান এরর, দুর্ঘটনা নয়। তিনি যা করেছেন, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।’
দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জানার পরেই গেটম্যানকে গ্রেপ্তারির নির্দেশ দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘সকাল ৯টা নাগাদ প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জানার পরেই মুর্শিদাবাদের এসপি-কে বলি, গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করতে। তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে।’ এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ওভারব্রিজের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু জমি জটে কাজ আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ। শুভেন্দু বললেন, ‘এখন দোষারোপ করব না। আমরা রেলকে ৬১টি প্রকল্পের জন্য জমি দিয়েছি। বিএসএফকে সীমান্তে ২০০ কিলোমিটার এলাকা দেওয়া হয়েছে। এখানেও আমরা দেখছি।’
ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এডিআরএম-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী দল। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা। মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে পূর্ব রেল।