পরিবারে তিন দিনে তিন মৃত্যু! কারণ জানলে শিউরে উঠবেন
আজকাল | ১৭ জুলাই ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: জলপাইগুড়ির বানারহাট থানার পশ্চিম দুরামারি এলাকায় মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরকীয়া সন্দেহের জেরে গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ ওঠার পর একে একে উদ্ধার হয়েছে তাঁর স্বামী ও দেওরের ঝুলন্ত দেহ। গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বানারহাট থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম দুরামারির বাসিন্দা বিমল রায় দীর্ঘদিন ধরেই স্ত্রী চুমকি রায়ের(৩৬) সঙ্গে নিজের ভাই সনাতন রায়ের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন।
এই সন্দেহকে কেন্দ্র করে পরিবারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। অভিযোগ, ঘটনার দিন চুমকি বাড়ি থেকে বের হলে তাঁর পিছু নেন বিমল। এরপর থেকেই দু’জনেরই খোঁজ মিলছিল না।
পরে তাঁদের ছেলের মোবাইলে পাঠানো একটি ভয়েস মেসেজে বিমল দাবি করেন, তিনি স্ত্রীকে খুন করেছেন এবং নিজেও আত্মহত্যা করতে চলেছেন। এরপর তল্লাশি চালিয়ে মোরাঘাট জঙ্গলের মধুবনী সেতুর কাছে চুমকির ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন একই জঙ্গল থেকে বিমল রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিম দুরামারির রাঙাতি মহাশ্মশানের একটি গাছ থেকে বিমলের ভাই সনাতন রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, দাদা ও বৌদির মৃত্যুর ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সনাতন। সেই কারণেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। যদিও এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
বানারহাট থানার পুলিশ তিনটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। পাশাপাশি, গোটা ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।