জোড়া ফুলের জোড়া শিবিরে লড়াই মনোলগের বিরুদ্ধে ডায়লগের
আজকাল | ১৭ জুলাই ২০২৬
রিয়া পাত্র: জোড়া ফুল। জোড়া শিবির। জোড়া সভা। জোড়া পোস্টার। গত কয়েকদিনে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা দুই পোস্টারকে ঘিরেই। তবে যত এগিয়ে আসছে ২১-এ জুলাই, প্রশ্ন উঠছে, গান্ধী মূর্তির পাদদেশ থেকে, বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের দূরত্ব কদ্দুর? দু'কিলোমিটারের কম দূরত্বে, এক পক্ষের প্রধান বক্তার বক্তব্য কি পৌঁছে যাবে অন্য শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের কানে? কারণ, গত বছরেও দুই শিবির ছিল একজোটে, প্রধান বক্তা ছিলেন একজনই।
তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের জল, লালবাজার ঘুরে আদালত পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। এক পক্ষ জায়গা পেয়েছে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে। 'হেভিওয়েট' নেতা-নেত্রীদের হিসেব কষলে, ঋতব্রত তৃণমূলের 'ওয়েট' এই মুহূর্তে খানিক বেশি। সোমবারে ওজন আরও বাড়ার সম্ভাবনা। অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূল বলছে, তৃণমূল মানেই মমতা ব্যানার্জি। তাদের ঘরেই আছে তৃণমূলের আসন সম্পদ। এবারেও তাঁদের প্রধান বক্তা সেই মমতাই।
কিন্তু দু'পক্ষের মঞ্চের সামনে ভিড় করবেন যাঁরা, অভিষেক-অনুব্রত-ঋতব্রত বিবাদের বাইরে বেরিয়ে তাঁরা কি মমতার কথা শুনতে চাইবেন না সকলেই? তাঁদের সকলের নেত্রী কি আর মমতা নন? একুশে জুলাইয়ের কোন মঞ্চে থাকবেন শহিদরা? একদিকে মমতা যখন শহিদ পরিবারগুলিকে নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তখন ঋতব্রত সাফ জানিয়েছেন, তাঁদের সভায় প্রথম সারিতেই থাকবেন শহিদ পরিবারগুলি। এই সমগ্র আলোচনার কারণ দুই ভিন্ন জায়গার দুই সভা নয় বরং কারণ দুই ভিন্ন পোস্টার। কালীঘাট তৃণমূল প্রাথমিকভাবে অন্যান্য বছরের মতো 'ধর্মতলা চলো' না লিখে 'কলকাতা চলো' লেখা পোস্টার প্রকাশ্যে এনেছিল। বিড়লা প্ল্যানেটরিয়াম স্থির হতেই, বদলে যায় পোস্টার। অভিষেকের ছবি বাদে, কেবল মমতার ছবি এবং প্রধান বক্তা হিসেবে তাঁর নাম দেওয়া পোস্টার সামনে এসেছে।
অন্যদিকে ঋতব্রত তৃণমূলের পোস্টার কেমন? রবি ঠাকুর-গান্ধী-আম্বেদকর-নজরুলের ছবি দেওয়া পোস্টারে কেবল সভাপতি অরূপ রায়ের নাম। নেই কোনও প্রধান বক্তার নাম? তাহলে সেদিন কর্মী সমর্থকরা কার বার্তা শুনতে আসবেন এত পথ উজিয়ে? জেলা থেকে? ঋতব্রত বলছেন, 'আমাদের লড়াই ইন্ডিভিজুয়্যাল কাল্টের বিরুদ্ধে কালেক্টিভের লড়াই। লড়াই মনোলগের বিরুদ্ধে ডায়লগের। এই লড়াইয়ে তাই আমরা শক্তিশালী করতে চাই ডায়লগকেই। ফলে আমাদের কোনও প্রধান বক্তা বিষয় নেই।'
কিন্তু কারা সেদিন বক্তব্য রাখবেন ঋতব্রত তৃণমূলে? জানা যাচ্ছে, এখনও কোনও তালিকা-সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে হয়ে যাবে শ্রীঘ্রই। রাজনৈতিক মহলে এখন জল্পনা, এই মনোলগের বিরুদ্ধে ডায়লগের লড়াইয়ের প্রতিফলন ঘটবে যে মঞ্চে, তার সামনে কি পৌঁছে যাবে প্রধান বক্তা মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য? জোড়া ফুলের কর্মী-সমর্থকরা জোড়া শিবির গুলিয়ে ফেলবেন না তো?