আজকাল ওয়েবডেস্ক: দমদম বিমানবন্দরের ভিতরে রানওয়ে লাগোয়া বাঁকড়া মসজিদকে সরানো ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। এহেন পরিস্থিতিতে বড় ঘোষণা করেছিলেন জমিয়ত উলেমা এ হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছিলেন শুক্রবার বাঁকড়া মসজিদে নমাজ পড়তে যাবেন তিনি। যদি তাঁদের বাধা দেওয়া হয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা হবে। কোনও মাইকিং বা রাস্তায় ধর্না নয়।
এরপরই তাকে পাল্টা দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এটা যেন ভুলে না যান এটা তৃণমূলের রাজত্ব নয়, বিজেপির রাজত্ব। যা নাচাকোদা করে নিয়েছেন তৃণমূলের আমলে। অনেক ফুটানি দেখেছি আমরা। হাজার হাজার লোক নিয়ে এসে কলকাতা ঘেরাও করতেন। এই ভুলটা যেন এখন না করেন। পুলিশের লাঠি শক্ত হয়ে গিয়েছে। এক ঘা পড়লে বাকি জীবনটা হাসপাতালে যাবে। এই বয়সে এগুলি শোভা দেয় না। আপনার নেতাগিরি চলবে না। মানুষ সবকিছু বুঝে গিয়েছে। পুরোটাই তৈরি করা ছিল। ওনার পিছনে আর কেউ নেই। মুসলিম সমাজও জেনে গিয়েছে এখানে বাকি লোকেদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে হবে। আলাদা সুবিধা কাউকে দেওয়া হবে না।’
প্রসঙ্গত, এয়ারপোর্টের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য বাঁকড়া মসজিদকে সরানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই মসজিদে নমাজ পড়া বন্ধ। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এয়ারপোর্টের সম্প্রসারণ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ওই মসজিদ অন্যত্র সরানো দরকার। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মসজিদটির জন্য একধারে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
লক্ষ লক্ষ যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। কারণ, কারা এই বিমানবন্দরের ভেতরে নমাজ পড়তে ঢুকছেন, তাঁদের জন্য কোনও বৈধ পাস ইস্যু হয় না। শুধুমাত্র আধার কার্ডের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে পৌঁছে তাঁরা নমাজ পড়েন। এছাড়া মসজিদটি রানওয়ে সংলগ্ন হওয়ায় সেকেন্ডারি রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে রয়েছে এই মসজিদ। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সুরক্ষাবিধি স্পষ্ট বলছে, রানওয়ে থেকে যে কোনও কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক।