• এই জেলায় ৩৫ হাজার মহিলা ‘লাখপতি দিদি’, কীভাবে স্কিমে আবেদন?
    আজ তক | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • শিল্প ও বাণিজ্যে সমৃদ্ধ পশ্চিম বর্ধমানে নারী উদ্যোক্তাদের আরও এগিয়ে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। চলতি অর্থবর্ষে জেলার ৩৫ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাকে ‘লাখপতি দিদি’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে ডিস্ট্রিক্ট রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেল (ডিআরডিসি) ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য মোট ৪১৯ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আগামী দু'মাসের মধ্যেই প্রায় ১২২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিপুল কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই জোরকদমে কাজ শুরু করেছে।

    বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমানে ১৩ হাজার ১৩৫টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। প্রতিটি গোষ্ঠীতে গড়ে ১০ জন করে সদস্য আছেন। তাঁদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য ইতিমধ্যেই বাজারে ভালো সাড়া ফেলেছে। সেই সাফল্যকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে এবার বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

    জেলার পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ২ হাজার ৩১০ জন মহিলা ‘লাখপতি দিদি’ হয়েছিলেন। অর্থাৎ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে বছরে এক লক্ষ টাকার বেশি লাভ করেছিলেন তাঁরা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৪৮১। আর গত অর্থবর্ষে ১১ হাজার ২২৯ জন মহিলা বছরে এক লক্ষ টাকার বেশি আয় করে ‘লাখপতি দিদি’র স্বীকৃতি পেয়েছেন।

    এবার সেই সংখ্যার সঙ্গে আরও ৩৫ হাজার মহিলাকে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও পরিকল্পিতভাবে এগোলে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব।

    এই উদ্দেশ্যে মহিলাদের শুধু ঋণ দেওয়াই নয়, কোন ধরনের ব্যবসায় লাভের সম্ভাবনা বেশি, কীভাবে ব্যবসা পরিকল্পনা করতে হবে, বাজার ধরতে হবে এবং লাভ বাড়াতে হবে, সেই বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনে একটি বড় কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। জেলার বিভিন্ন এলাকাতেও ধারাবাহিকভাবে এমন কর্মশালা চলছে।

    একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় রাখা হচ্ছে, যাতে ঋণ পেতে কোনও মহিলা অযথা হয়রানির শিকার না হন।

    পশ্চিম বর্ধমান জেলা ডিআরডিসির প্রকল্প অধিকর্তা পার্থ দে জানান, ৩৫ হাজার মহিলাকে ‘লাখপতি দিদি’ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। ব্যবসার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে উৎপাদন, প্যাকেজিং, বিপণন এবং বাজার সম্প্রসারণ, প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, ঋণ নিয়ে কার্যকর ব্যবসা গড়ে তুলতেই হবে। শুধু ঋণ নেওয়ার জন্য ঋণ নয়, সেই অর্থ কাজে লাগিয়ে স্বনির্ভর ও লাভজনক উদ্যোগ গড়ে তোলার দিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

     
  • Link to this news (আজ তক)