‘বদনাম’ ঘোচানোর চেষ্টা! এবার তিরুপতি মডেলে পেশাদারদের হাতে দায়িত্ব যেতে পারে রাম মন্দিরের
প্রতিদিন | ১৭ জুলাই ২০২৬
রাম নামের জয়ধ্বনি ‘শক্তি’ জোগায় গেরুয়া শিবিরকে। সেই রামের প্রণামী ঘিরে বিতর্ক। অস্বস্তি ক্রমেই বেড়েছে। ‘বদনাম’ মুছতে অযোধ্যার রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Mandir) প্রশাসনিক খোলনলচে বদলের ভাবনা পদ্মের অন্দরে।
বিজেপির শীর্ষনেতৃত্বের একাংশ চাইছে, তিরুপতি বালাজি মন্দিরের আদলে রাম মন্দির পরিচালনার ভার তুলে দেওয়া হোক পেশাদারদের হাতে। নিরাপত্তা, আর্থিক লেনদেন, হিসাবরক্ষণ থেকে দৈনন্দিন প্রশাসন- সবই দেখবেন বিশেষজ্ঞরা। সাধু-সন্তদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকবে শুধু পুজো-অর্চনা ও বিগ্রহের সেবায়। বিজেপির প্রথম সারির এক শীর্ষনেতার বক্তব্য, “রাম মন্দির পরিচালনা আবেগ দিয়ে নয়, পেশাদারিত্ব দিয়েই হওয়া উচিত। নিরাপত্তা থেকে আর্থিক ব্যবস্থাপনা-সবই দক্ষ পেশাদারদের হাতে থাকা দরকার।” যোগী আদিত্যনাথ সরকার এই দায়িত্ব নেবে, না কি! কেন্দ্র সরাসরি উদ্যোগী হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। পাশাপাশি সরকারি সংস্থা না বেসরকারি পেশাদার প্রতিষ্ঠান-কোন পথে এগোনো হবে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। বিজেপি সূত্রের খবর, রাম মন্দিরের উদ্বোধনের পর তিরুপতি দেবস্থানমের একটি প্রতিনিধি দল অযোধ্যায় এসে মন্দির পরিচালনার রূপরেখা নিয়ে ট্রাস্টকে পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু তখন সেই পরামর্শে গুরুত্ব দেয়নি ট্রাস্ট।
উল্লেখ্য, তিরুপতি বালাজি মন্দির পরিচালনা করে তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম (টিটিডি) নামে একটি স্বশাসিত ট্রাস্ট। ট্রাস্ট বোর্ড নীতি ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নেয়, আর রাজ্য সরকারের নিয়োগ করা এক্সিকিউটিভ অফিসারের নেতৃত্বে পেশাদার প্রশাসনিক দল মন্দিরের দৈনন্দিন পরিচালনা, ভক্তসেবা, নিরাপত্তা, আবাসন, প্রসাদ বিতরণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সামলায়।
এদিকে, বাদল অধিবেশনে এই ইস্যুতে ঝড় উঠতে পারে লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই কক্ষেই। কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে সরকারকে চাপে ফেলতে দুই কক্ষেই সরব হওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিরোধী শিবির। সেই কারণেই পালটা প্রস্তুতিও শুরু করেছে বিজেপি। দলের অন্দরে স্পষ্ট বার্তা, রাম মন্দির পরিচালনায় পেশাদার কাঠামোর ভাবনাকে সামনে এনে বিজেপি বোঝাতে চাইবে, অনিয়মের অভিযোগ ধামাচাপা নয়, বরং ভবিষ্যতে এমন বিতর্ক এড়াতেই প্রশাসনিক সংস্কারের পথে হাঁটতে চায় তারা।