মায়ের মৃত্যুতে ক্ষণিকের ‘মুক্তি’, প্রশাসনের অনুমতিতে ২৫ বছর পর গ্রামে মাওবাদী নেত্রী পুষ্পা
প্রতিদিন | ১৭ জুলাই ২০২৬
দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর পর নিজের গ্রামে ফিরলেন মাওবাদী নেত্রী শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা। তবে সেই ফেরা ছিল গভীর বেদনার। পুষ্পার মা মিথিলা মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। সেই নিথর দেহ ছুঁয়ে মাকে শেষবারের মতো দেখতে আসা পুষ্পার। বুধবার মায়ের মৃত্যুর পর প্রশাসনের অনুমতিতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বেলপাহাড়ি থানার অন্তর্গত গ্রামের বাড়িতে আনা হয় পুষ্পাকে। সেখানেই মায়ের নিস্পন্দ দেহের সামনে ভেঙে পড়েন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্রেন টিউমারে ভুগছিলেন মিথিলা মাহাতো। অসুস্থতার কারণে তাঁকে প্রথমে বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু সেই সুযোগ আর পাওয়া যায়নি। ঝাড়গ্রাম থেকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পথেই বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়।
মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে জেলেই কেঁদে আকূল হন পুষ্পা। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়, যাতে তিনি শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখতে পারেন, তাই কিছুটা সময়ের জন্য ছাড়া হোক। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুষ্পাকে বেলপাহাড়ির গ্রামে নিয়ে আসা হয়। প্রায় ২৫ বছর পর নিজের ভিটেতে ফিরে মায়ের মৃতদেহ জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কিছু সময় কাটান। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে ফের নিয়ে যাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সিপিআই (মাওবাদী)-র জোনাল কমিটির সদস্য শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা গত ১৭ জুন কলকাতার লালবাজারে আত্মসমর্পণ করেন। দীর্ঘদিন জঙ্গলমহল-সহ একাধিক এলাকায় সক্রিয় থাকা এই মাওবাদী নেত্রীর ২৫ বছর পর গ্রামে ফেরা এবং মায়ের শেষকৃত্যের আগে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে বেলপাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের পরিবেশ ছিল। পরে অবশ্য সকলেই মাতৃহারা পুষ্পার পাশে দাঁড়ান।