• মুর্শিদাবাদে ট্রেন দুর্ঘটনার হাত থেকে কীভাবে রক্ষা পেল দ্বিতীয় শ্রেণির শ্রেয়া? জানুন
    News18 বাংলা | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • : মুর্শিদাবাদে শুক্রবার সকালে ঘটে যায় ভয়াবহ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় পাঁচজনের। গোবিন্দপুর থেকে যদুপুরের এক বেসরকারি স্কুলে যায় একটি পুলকারে চেপে সাতজন ছাত্র ছাত্রী। গোবিন্দপুরের বাসিন্দা শ্রেয়া দত্ত প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। কিন্তু আজকে যায়নি স্কুলে। তবে ঘটনা শোনার পর থেকেই এখনও চোখে মুখে আতঙ্ক, ভুলতে পারছেন না এই ঘটনা।

    শ্রেয়ার মা জানিয়েছেন, আজকে মেয়ের শরীর খারাপ ছিল। তাই সকালে উঠে আর মন চাইনি শ্রেয়া বিদ্যালয়ে যাক। তবে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে যে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটবে তা কল্পনাও করতে পারেননি শ্রেয়া ও তার পরিবার। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মা, স্কুলে না যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।

    দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী শ্রেয়া জানিয়েছেন, ‘আমি দৈনন্দিন গাড়ি করে স্কুলে যায়।’ শ্রেয়ার কথায় সর্ব প্রথম ওঠে বাড়ি থেকে ফারহানা, তারপরেই গাড়িতে চাপে জেসিকা শবনম, পরে তামান্না পারভীন ও ইনসারুল রহমান। পরবর্তীতে গাড়ি এসে দাঁড়িয়ে থাকে শ্রেয়ার বাড়ির বাইরে। শ্রেয়া ওঠার পরেই বিশেশ্বর মণ্ডল পুলকারে চেপে রওনা দেন যদুপুরের বেসরকারি বিদ্যালয়ে। খেলতে ও আনন্দ করতে করতে স্কুলে যান নিত্যদিন শ্রেয়া-সহ সকলেই। আজ এমন দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় সকলকেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান রাজ্যের মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষ ও জেলা শাসক আর অর্জুন ।

    মুর্শিদাবাদ জেলা শাসক আর অর্জুন জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের রেল ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও রাজ্যে সরকার ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে। এছাড়াও চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর  নির্দেশে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ, জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা মন্ত্রী গৌরী শংকর ঘোষ  তিনি উপস্থিত হন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। জেলা শাসক আর অর্জুন, জেলা পুলিশ সুপার সচিন মক্কর ও মুর্শিদাবাদ জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সন্দ্বীপ সান্যাল ও MSVP তারা বৈঠক করেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় এবং ঠিক ভাবে চিকিৎসা যাতে দেওয়া হয় তা নিয়ে আলোচনা করেন।

    জেলাশাসক আর অর্জুন জানান, গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে রেলের আধিকারিক ও বহরমপুর থানার পুলিশ। এলাকায় পুলিশি মোতায়েন রয়েছে।

    রাজ্যের মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষ জানান, “যারা মারা গেছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সরকারের পক্ষ থেকে কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া, আহতদের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব রাজ্য ও কেন্দ্র—উভয় সরকারের পক্ষ থেকেই নেওয়া হয়েছে। একজনের ভুলের জন্য এতগুলো বাচ্চার প্রাণ গেল, এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক ঘটনা। এই দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আগামী দিনে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য প্রত্যেকটা রেল স্টেশনের লেভেল ক্রসিংগুলোতে আন্ডারপাস করার ব্যবস্থা করা হবে। রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে এই কাজ করা হলে আমরা এই সমস্ত দুর্ঘটনা এড়াতে পারব।”
  • Link to this news (News18 বাংলা)