১০০ কেজিরও বেশি বিক্রি! বছরের পর বছর একই স্বাদ, শান্তিপুরের এই দোকানে জিলিপির জাদুতে বুঁদ সবাই
News18 বাংলা | ১৭ জুলাই ২০২৬
: রাত বাড়ছে, কিন্তু কমছে না ভিড়। ঘড়ির কাঁটায় যখন পৌনে বারোটা, তখনও দোকানের বাইরে লম্বা লাইন। সেই লাইনে যেমন সাধারণ ক্রেতা, তেমনই রয়েছেন পুলিশের পোশাক পরা কর্মীরাও। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রেস লেখা মোটরসাইকেল। কিন্তু এখানে পরিচয়ের কোনও বাড়তি সুবিধা নেই। আগে এলে আগে পাবেন—এই নীতিতেই চলে বিক্রি।
দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে কেউ কাউকে ১ ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে রাজি নয় ক্রেতারা, আবার সময় যায় লাগুক না কেন, রথের মেলার ভোলা খাবার কিংবা আকর্ষণীয় করার জন্য সস্তা রং ব্যবহার করা জিলাপি নিরাপদ নয় তাই বিশ্বস্ত এই দোকানে প্রতিবছরই সোজা রথ বা উল্টোরথ মধ্যরাত পর্যন্ত বিক্রি হয় জিলাপি সারা বছর পাওয়া গেলেও তা বিকাল থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাত্রি ১০ টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে কলাইয়ের ডাল ভেজানো হয় পাঁচ কিংবা ১০ কেজি আর আজকের এই বিশেষ দিনে সোজা ৫০ কেজি।
শান্তিপুরের কাশ্যপ পাড়ার এক মিষ্টান্ন ভাণ্ডার আজ শুধু একটি মিষ্টির দোকান নয়, বরং বহু বছরের ঐতিহ্য আর বিশ্বাসের আরেক নাম। বিশেষ করে তাদের গরম গরম জিলিপির স্বাদ নিতে প্রতিদিনই সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকে। দোকান সূত্রে জানা যায়, রথের জন্য ৫০ কেজি কলাইয়ের ডাল ভেজানো হয়েছিল। সেই ডাল দিয়েই তৈরি হয় জিলিপির বিশেষ মিশ্রণ। তবে ব্যবসায়িক কারণে সম্পূর্ণ রেসিপি প্রকাশ করা হয় না। বছরের পর বছর ধরে একই স্বাদ ধরে রাখতে পরিবারের নিজস্ব পদ্ধতিতেই তৈরি হচ্ছে এই জনপ্রিয় মিষ্টি।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছেন পাঁচজন মিষ্টান্ন শ্রমিক। তাঁদের সঙ্গে বিক্রির দায়িত্বে রয়েছেন তিন জন দোকানদার। সারাদিনে আনুমানিক ১০০ কেজিরও বেশি জিলিপি তৈরি ও বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন দোকান কর্তৃপক্ষ। ক্রেতাদের কথায়, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী দাম হলেও স্বাদের সঙ্গে কোনও আপস নেই। তাঁদের দাবি, জিলিপি তৈরিতে কোনওরকম ক্ষতিকারক উপকরণ ব্যবহার করা হয় না, তাই অনেকেই বিকেলে না পেলেও রাত ১১টার সময় কিনে বাড়িতে নিয়ে রাখেন পরদিন খাওয়ার জন্য। পরের দিনও সেই স্বাদ ও গুণমান অটুট থাকে বলেই তাঁদের বিশ্বাস। স্বাদ, গুণমান, পরিশ্রম এবং দীর্ঘদিনের আস্থা—এই চার স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আজও শান্তিপুরের মানুষের অন্যতম প্রিয় ঠিকানা ওই মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। আর তাই রাত যতই গভীর হোক, গরম গরম জিলিপির জন্য অপেক্ষার লাইন যেন শেষই হতে চায় না।