ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন মৌমিতা রায় সেন। মেয়ে নিখোঁজ। চব্বিশ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও হদিশ মেলেনি রাজ্যস্তরের রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেনের। কাঁদতে কাঁদতেই এই সময় অনলাইনকে মৌমিতা বললেন, ‘রাতে ওর বাবা ফোন নিয়ে নেয়। সেটাই হয়তো মনে লেগে গিয়েছিল...।’
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে দশটা নাগাদ দুধ কিনতে বেরিয়েছিল দময়ন্তী। তার পরে আর ফেরেনি। দুই মেয়ে আর স্বামী ধ্রুবজ্যোতি সেনের সঙ্গে মধ্য হাওড়ার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনে থাকেন মৌমিতা। দময়ন্তীই বড়। কিন্তু সে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই গোটা পরিবারের মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে। প্রথমে গোটা এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন তাঁরা। আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে খবর নেন। মেয়ে তাঁদের বাড়ি গিয়েছে কি না, জানতে চান। কিন্তু কোথাও নেই। দময়ন্তী যেন কর্পূরের মতো উবে গিয়েছে।
প্রতিদিন রাতে শুতে যাওয়ার আগে বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেনকে ফোন দিয়ে দেয় দময়ন্তী। অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হয়। প্র্যাকটিস থাকে। বুধবার রাতে ফোন দিতে ভুলে গিয়েছিল দময়ন্তী। মৌমিতার কথায়, ‘ঘুমোতে যাওয়ার আগে ওর বাবা ফোনটা চেয়ে নিয়েছিল।’ সেটাই কি কোথাও কষ্ট দিল সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া দময়ন্তীর?
এমনই সন্দেহ মৌমিতার। তারাসুন্দরী বালিকা বিদ্যাভবনের শিক্ষিকা তিনি। ফোনে কান্না ভেজা গলায় এই সময়কে বললেন, ‘মনে হচ্ছে, হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা নেয়। ও কিন্তু এমনিতে খুব শান্ত।’ দময়ন্তী একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ে।
দময়ন্তী অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকারের কাছে প্র্যাকটিস করেন। তিনিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন, ‘দময়ন্তী তুমি ফিরে এসো।’ কয়েক দিন আগেই ন্যাশনাল টিমের ট্রায়ালে ডাক পেয়েছেন। এ দিন একটা টুর্নামেন্টও যোগ দেওয়ার কথা ছিল তার। সেই কথা বলতে গিয়ে গলা কেঁপে গেল বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেনের। তিনি আন্দুলের রানিবালা গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। বৃহস্পতিবারের পর থেকে সব কাজ ফেলে শুধু হন্যে হয়ে মেয়েকে খুঁজে চলেছেন তিনি। এই সময় অনলাইনকে ফোনে বললেন, ‘ও কিন্তু ফোন অ্যাডিক্ট নয়। প্রতিদিন নিজেই আমায় দিয়ে দেয়। সেই দিন ভুলে গিয়েছিল। তাই আমি চেয়েছিলাম।’ কিছুক্ষণ থেমে ফুঁপিয়ে উঠলেন, ‘আমার মেয়েটা যেন উবে গেল।’
কিশোরী শুটারকে শেষ বার দেখা গিয়েছিল হাওড়া স্টেশনে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, গোলাপি রঙের হাফ টি-শার্ট আর হাফ প্যান্ট পরে হাওড়া স্টেশনের ৪-৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে হেঁটে যাচ্ছে সে। ওই দিন রাতে শ্রীরামপুরের মাহেশে তাঁকে দেখা গিয়েছে বলে খবর পেয়েছিলেন মৌমিতারা। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ছুটে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিরতে হয় খালি হাতেই। মৌমিতা বললেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে মেয়েকে বলছি, ফিরে আয়। একটা ফোন কর।’