• 'জেদ চেপে বসেছিল...', NEET -এ বাঁকুড়ায় প্রথম সচিন, কীভাবে পড়াশোনা করতেন? কীভাবে এল সাফল্য?
    News18 বাংলা | ১৮ জুলাই ২০২৬
  • NEET পরীক্ষা ক্যানসেল হয়ে যাওয়ার পরেও ভেঙে পড়েনি, বরং দ্বিতীয়বার পরীক্ষার জন্য চেপে বসেছিল জেদ। তাতেই এল দারুন সাফল্য, দুর্দান্ত রেজাল্ট করল বাঁকুড়ার ছেলে। বাঁকুড়ার জেলার শীর্ষে সে-ই। জাতীয় স্তরের মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET (UG) ২০২৬-এ নজরকাড়া সাফল্য বাঁকুড়ার খাতড়ার ছাত্র সচিন সেনের। প্রথম দফায় পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে সারা ভারতের মধ্যে ১৭৫২তম স্থান অর্জন করেছে। প্রাপ্ত নম্বর ৭২০-এর মধ্যে ৬৪৬, পার্সেন্টাইল ৯৯.৯১। এই সাফল্যের সুবাদে সচিন বাঁকুড়া জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে নিয়েছে।

    সচিন সেন খাতড়া কংসাবতী শিশু বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। বর্তমানে খাতড়া বাজার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস। তার বাবা শেখর সেন মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও পরিবারের নিরন্তর উৎসাহ, কঠোর পরিশ্রম এবং নিয়মিত প্রস্তুতির জোরেই এই অসাধারণ সাফল্য এসেছে সচিনের। পরীক্ষা বাতিলের ধাক্কা সামলে, নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নিয়ে দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসে এই কৃতিত্ব অর্জন করে নেয়।

    স্কোরকার্ড অনুযায়ী, জীববিজ্ঞানে ৯৭.৮৬ শতাংশের বেশি, রসায়নে ৯৯.৭০ শতাংশের বেশি এবং পদার্থবিজ্ঞানে ৯৯.৯৩ শতাংশের বেশি পার্সেন্টাইল অর্জন করেছে সচিন। অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ১৭৫২-এর পাশাপাশি ওবিসি (এনসিএল) বিভাগে তার ক্যাটাগরি র‍্যাঙ্ক ৫৭৮। এই ফলাফলের ফলে দেশের অন্যতম সেরা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট উজ্জ্বল বলে মনে করছে শিক্ষামহল।

    সচিনের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া বইছে খাতড়া জুড়ে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, কঠিন পরিস্থিতি ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে লক্ষ্যে অবিচল থাকলে সাফল্য অর্জন সম্ভব, সচিন সেন তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। তার এই কৃতিত্ব ভবিষ্যতে মেডিক্যালের স্বপ্ন দেখা অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)