জামুড়িয়ার শেখপুরের একটি বেসরকারি স্পঞ্জ আয়রন কারখানায় বিস্ফোরণ। আহত হয়েছেন অনেকেই। একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলেও আশঙ্কা।
শুক্রবার রাতে পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়ার শেখপুরের একটি বেসরকারি স্পঞ্জ আয়রন কারখানার ফার্নেসে আচমকা বিস্ফোরণ হয়। তাতেই অনেকেই আহত হয়েছেন। ওই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে প্রায় ১ কিলোমিটার দূর থেকেও।
খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে গিয়েছে পুলিশ এবং দমকল বাহিনী। হতাহতদের উদ্ধার করার পাশাপাশি ওই আগুন নিয়ন্ত্রণ করার কাজ শুরু করেছেন আধিকারিকরা।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের সময়ে ওই ফার্নেস সংলগ্ন এলাকার তাপমাত্রা পৌঁছে যায় কয়েক হাজার ডিগ্রিতে।ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আহত হয়েছেন পাঁচ জন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ওই কারখানার মধ্যে একাধিক শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরেই ওই কারখানার সামনে হাজির হন এলাকার লোকজন। ওই কারখানা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরেও বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গিয়েছে বলেও জানিয়েছে তাঁরা। এর জেরে কয়েকটি বাড়িতে ফাটলও দেখা দিয়েছে। ওই কারখানার ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক নিখোঁজ বলেও দাবি তাঁদের।
এই বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরেই জামুড়িয়া থানার ওসি সৌমেন্দ্র সিংহ ঠাকুরের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গ্রামবাসীদের নিয়ন্ত্রণ করতে বেগ পেতে হয় তাদের। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ওই কারখানার পাঁচ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। ফার্নেসের কাছাকাছি আরও কেউ ছিল কি না, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। আগুনের তাপ না কমলে ভেতরে গিয়ে তল্লাশি চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর লোকজন।
ওই কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির নেতারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন বিজেপির নেতা দীপ বন্দোপাধ্যায়ও। ভয়াবহ এই ঘটনার পরেও সেখানে মালিকপক্ষের কারোর মতো নিরাপত্তারক্ষীদের কাউকেই দেখা যায়নি বলে অভিযোগ তাঁর। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এলাকার বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায় সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ওই কারখানায় বিগত ১৫ বছর ধরে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে শ্রমিকদের বলেও অভিযোগ তাঁর। এই নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তর দাবি করেছেন বিজেপির নেতারা। ঘটনায় আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান বিজেপি নেতারা। দূষণ সৃষ্টিকারী কারখানাগুলি এলাকায় আর চলতে দেওয়া যাবে যাবে না বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।