সুগত বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি
বাংলায় ‘সার’–এর শেষ পর্যায়ে ‘অ্যাজুডিকেশন’–এর মাধ্যমে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তাঁরা কেউ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। নির্বাচন কমিশন মনে করে এরা সকলে প্রকৃত ভোটার হলে ভোট করা যেত না। এদের মধ্যে প্রচুর বাংলাদেশি রয়েছেন। সেই ২৭ লক্ষ নাগরিককে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে নাম তুলে ভোটার হিসেবে নিজেদের বৈধতা যাচাই করতে হচ্ছে।
শুক্রবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘এখন কি বাংলায় ভোট আছে? ভোট আসতে দিন, কমিশন ভাববে। কারণ, ট্রাইব্যুনাল কমিশন করেনি, আদালত করেছে।’বিধানসভা নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা ফ্রিজ় হয় গত ৯ এপ্রিল৷ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম নেই এমন বঙ্গবাসীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৯১ লক্ষ৷ এর মধ্যে অন্তত ২৭ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা নামগুলির নিষ্পত্তির ভার তুলে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের উপরে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বর্তমানে নিষ্পত্তির কাজ চলছে।
অন্য দিকে, রাজ্যে পালাবদলের পরে আড়াআড়ি ভাঙন হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে। ফলে তৃণমূলের প্রতীক কোন শিবিরের হাতে থাকবে, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে কালীঘাট শিবিরের প্রতিনিধিরা কমিশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি ও বক্তব্য পেশ করেছেন। ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের প্রতিনিধিরাও কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের পক্ষে নথি জমা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা, ‘কে আসল তৃণমূল সেটা জানি না। আমাকে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। যা হবে সংবিধান মেনেই হবে।’