এই সময়: কালীঘাট–তৃণমূল আর বিদ্রোহী তৃণমূলের মধ্যে টানাপড়েন অব্যাহত।
দু’দিনও হয়নি কালীঘাট–ঘনিষ্ঠ তৃণমূল শিবির ছেড়ে বিদ্রোহী তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তার মধ্যেই শুক্রবার হঠাৎ বিধানসভায় আম্বেদকর মূর্তির নীচে কালীঘাট–তৃণমূলের একটি কর্মসূচির মধ্যে গিয়ে পড়লেন মদন। তিনি পরেছিলেন হালকা গেরুয়া রঙের পাঞ্জাবি। তাঁকে দেখে এখনও কালীঘাটের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ হালকা মেজাজে বলেন, ‘মদনদা শারীরিক ভাবে ওই দিকে (বিদ্রোহী তৃণমূল) গিয়েছেন। কিন্তু মন অন্য দিকে পড়ে রয়েছে।’ জবাবে মদনও হেঁয়ালি করে বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, ওঁর (কুণাল) মন হারানোর সময় খুব তাড়াতাড়ি আসছে।’
এ দিন কুণাল–মদন বিতর্কের মধ্যেই কালীঘাট–তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ফেসবুক থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককেই আক্রমণ শাণিয়েছেন তিনি। রাজীবের দাবি, তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন শেষ করে দিয়েছেন অভিষেক। তাৎপর্যপূর্ণ হলো, বাংলায় তৃণমূলের বিপর্যয়ের পরেও রাজীবের উপরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আস্থা হারাননি। তাঁকে হাওড়া সদরের সভাপতি করেছিলেন মমতা। এ দিন রাজীবের সাফ কথা, ‘দিদিকে একটা কথাই বলব, আর অভিষেক–অভিষেক করবেন না। ওঁকে বাঘের বাচ্চা বানাবেন না।’
শুক্রবার নিট-কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনশনে বসা সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে বিধানসভা চত্বরেই ধর্নায় বসেছিলেন কালীঘাট–তৃণমূলের বিধায়করা। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘর থেকে বেরিয়ে হঠাৎই সেখানে চলে যান মদন। তাঁকে সেখানে দেখে কুণাল হাসতে হাসতে বলেন, ‘মদনদা ভাল থাকুক। দু’-চার দিন যা মন চায়, প্রাণ চায় বলুক। আমরা জানছি, আমাদের ভিতরের একটা লোক ওদের (বিদ্রোহী তৃণমূল) মধ্যে রইল।’ হাসি মুখেই কুণালের কথা শুনতে দেখা যায় মদনকে। সেই সময়ে পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন কালীঘাট–তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, আলিফা আহমেদ, অশোক দেবরা। শোভনদেবের উদ্দেশে মদনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি চাই, শোভনদা আগামী ১০ বছর বিরোধী আসনে বসুন।’ মদনের কথা শুনে হেসে ফেলেন শোভনদেবও। বলেন, ‘১০ বছর বিরোধী আসনে বসব! এটা কী বললি? আবার আসিব ফিরে।’
পরে অবশ্য মদন ব্যাখ্যা দেন যে, কালীঘাট–তৃণমূলের কর্মসূচির সময়ে আম্বেদকরের মূর্তির নীচে হাজির হলেও তাঁর অবস্থান বদল হচ্ছে না। পরিবারের সদস্যদের ইডির নোটিস পাঠানো প্রসঙ্গে মদনের সংযোজন, ‘আমার স্ত্রী-পুত্রকে দেশের এজেন্সি ডেকেছে। তাঁরা যাবেন। এর আগেও ডেকেছে। সত্যিই যদি আমি অন্যায় করে থাকি, তার তো বিচার হওয়া উচিত।’ শুক্রবার আবার কালীঘাট–তৃণমূল ছেড়ে বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরলেন বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস এবং রাজারহাট–নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে বিদ্রোহী তৃণমূলের তরফে বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে।