এই সময়: বৃহস্পতিবারই রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ পদ ছেড়েছেন কোয়েল মল্লিক। তৃণমূলত্যাগী এই অভিনেত্রী–সাংসদ কি বিজেপিতে যোগ দেবেন— এ নিয়েই এখন জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে। কারণ, সাংসদ পদে ইস্তফা দেওয়ার পরেই কোয়েলকে দেখা গিয়েছিল দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে।
কোয়েলের বিজেপিতে যোগ দেওয়া কি এখন সময়ের অপেক্ষা? শুক্রবার সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘দেখুন, এ বিষয়ে আমাদের সংসদীয় দল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমাদের কাছে কোয়েল-দোয়েল-পায়েল কেউ কোনও বিষয় না। বিষয়টা হলো বিজেপি, বিষয়টা হলো নরেন্দ্র মোদী।’
ক’দিন আগে তৃণমূলত্যাগী রাজ্যসভার আরও তিন জনের বিজেপিতে যোগদান প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘সুখেন্দুশেখর রায়রা স্বেচ্ছায় দল ছেড়ে এসেছেন। তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়ে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তাই তাঁরা বিজেপির হয়ে রাজ্যসভায় গিয়েছেন। কিন্তু সামগ্রিক ভাবে আমি দলের তরফে বলছি, বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ হবে না। চর্চা যা চলছে, চলুক।’
২০২৬ বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পরপরই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সংসর্গ ত্যাগ করেছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক সুখেন্দুশেখর রায়। একই পথে হাঁটেন রাজ্যসভার আরও আরও দুই সাংসদ সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক। এরপরে সপ্তাহ দুয়েকের মাথায় সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর হাত ধরে তিন জনই যোগ দেন পদ্মে। সে দিনই রাজ্যসভার টিকিট পেয়ে যান তাঁরা। সংখ্যাতত্ত্বের ভিত্তিতে এই তিন আসনে তৃণমূলের প্রার্থী দেওয়ার কোনও অবকাশ নেই। তাই বিনা প্রতিন্দ্বন্দ্বিতায় ফের সংসদের উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক। শুক্রবার তাঁদের হাতে সার্টিফিকেটও তুলে দিয়েছেন বিধানসভার সচিব।