• ভরা বর্ষায় মেঘেদের দেশে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে? তা হলে ঘুরে আসতে পারেন উত্তরবঙ্গের এই অফবিট লোকেশন থেকে...
    এই সময় | ১৮ জুলাই ২০২৬
  • আপনিও কি পাহাড়প্রেমী? ভরা বর্ষায় পাহাড়ের কোলে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে? তা হলে আজ আপনাদের এমন এক জায়গার খোঁজ দেবো, যেখানে গেলে দেখতে পাবেন মেঘ একেবারে ঘিরে রেখেছে পাহাড়কে। যা দেখে আপনার মন ফুরফুরে হতে বাধ্য।

    উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং কিংবা সিকিমের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে সারা বছরই ভিড় লেগে থাকে। কিন্তু যদি এমন কোনও জায়গার খোঁজ করেন, যেখানে পর্যটকের কোলাহল নেই, আছে শুধু প্রকৃতির নির্জন সৌন্দর্য, তা হলে এ বারের বর্ষায় ঘুরে আসতেই পারেন তুরিয়ক (Toryok) থেকে।

    দার্জিলিং জেলার সিটংয়ের কাছেই পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে রয়েছে এই ছোট্ট গ্রাম। সিটং যেমন কমলালেবুর জন্য পরিচিত, তেমনই তুরিয়ক পরিচিত তার শান্ত পরিবেশ, মেঘে ঢাকা পাহাড়, সবুজ চা-বাগান আর পাখির কলতানে ভরা সকালের জন্য। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে এই অফবিট গন্তব্য একেবারে আদর্শ।

    বর্ষাকালে তুরিয়কের সৌন্দর্য যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। পাহাড়ের ঢালে ভেসে বেড়ানো মেঘ, চারপাশে সবুজ বন, রঙিন বুনো ফুল আর দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য—সব মিলিয়ে জায়গাটি যেন ছবির মতো সুন্দর। ভাগ্য ভালো থাকলে এখানকার অরণ্যে হরিণ, ভালুক-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীরও দেখা মিলতে পারে। তাই প্রকৃতিপ্রেমী এবং বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের কাছেও এই জায়গার আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।

    কী কী দেখবেন?

    তুরিয়ক ভ্রমণে গেলে ঘুরে দেখতে পারেন লেপচা ফলস, মহানন্দা বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য, স্থানীয় পাহাড়ি চার্চ, সিটংয়ের কমলালেবুর বাগান এবং মংপুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি। এ ছাড়া চারপাশের চা-বাগান, কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ পয়েন্ট, পাহাড়ি গ্রাম এবং মেঘে ঢাকা আঁকাবাঁকা রাস্তা এই সফরকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।

    কী ভাবে পৌঁছবেন?

    কলকাতা থেকে ট্রেন বা বাসে প্রথমে পৌঁছে যান নিউ জলপাইগুড়ি (NJP)। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে মংপু ও সিটং হয়ে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় তুরিয়কে। NJP থেকে সড়কপথে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। পুরো পথটাই পাহাড়, সবুজ অরণ্য আর মনোরম দৃশ্যে ভরা।

  • Link to this news (এই সময়)