• সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে গেল পুলিশ, অনশনের ২১তম দিনে শারীরিক অবস্থার অবনতি
    এই সময় | ১৮ জুলাই ২০২৬
  • অনশনের ২১ তম দিনে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো সোনম ওয়াংচুককে। শনিবার ভোরে  দিল্লির যন্তর-মন্তরে চত্বরে আসে বিশাল সংখ্যক পুলিশ। ধর্না মঞ্চ থেকে অনশনরত সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদকে সরিয়ে নিয়ে নিকটবর্তী সফদরজঙ্গ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ক্রমশই ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে খবর। একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের যন্তর-মন্তর চত্বর ফাঁকা করে দেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    শনিবার সকালে পুলিশ ও চিকিৎসকরা যন্তর-মন্তরে পৌঁছে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরে তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাকে ঘিরে যন্তর-মন্তর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ওয়াংচুকের সমর্থকরা পুলিশের ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ জানান। পুলিশের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখান প্রতিবাদকারীদের একাংশ। ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যদিও পুলিশি তৎপরতায় কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।

    দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ওয়াংচুকের জীবন রক্ষাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের কাছে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, ‘মাননীয় হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। মাননীয় হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার সময়ে বিক্ষোভকারীদের একাংশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর ফলে সামান্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও, পুলিশ সংযম রেখে নিরাপদভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।’

    অনশনের ২০তম দিনে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম অনশন ভাঙতে রাজি হননি। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা-সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তি সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানান। কিন্তু ওয়াংচুক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকার ছাত্রদের দাবি নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত তিনি আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান। একই সঙ্গে তিনি ২০ জুলাই নির্ধারিত সংসদ অভিযানে সাধারণ মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

    গত কয়েকদিন ধরেই টানা অনশনের ফলে সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দীর্ঘ অনশনের ফলে এই সমাজকর্মীর ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর ওজন ৯ থেকে ১০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। এমনকী চিকিৎসকেরা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। এদিকে দুর্বলতা বাড়লেও ওয়াংচুক অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এর আগে দিল্লি হাইকোর্টও প্রশাসনকে তাঁর স্বাস্থ্যের উপর প্রতিদিন নজর রাখতে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মতোই এদিনের পদক্ষেপ বলে দাবি।

    পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন সকালে সোনম ওয়াংচুককে ধর্না মঞ্চ থেকে সরিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করছেন। সূত্রমতে, তাঁর জ্ঞান ফিরেছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।

    সোনম ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে যন্তর-মন্তরে অনশন শুরু করেন। তাঁর মূল দাবি ছিল, NEET-UG-সহ বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক পরীক্ষা কেলেঙ্কারি দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)