• ‘লিস্টে নাম বাদ মানেই নাগরিকত্ব হারানো নয়’, বাংলার ‘সার’ মামলায় বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
    এই সময় | ১৮ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (সার) জেরে যাঁদের নাম বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা রেশন, অন্নপূর্ণা যোজনার মতো প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠল সুপ্রিম কোর্টে। শুক্রবার বাংলার ‘সার’ সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। সেখানে অন্যতম মামলাকারী প্রসেনজিৎ বসুর তরফে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন ও নেহা রাঠি জানান, রাজ্যের বিভিন্ন অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে প্রায় ৩৪ লক্ষ আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৩৮ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি এখনও হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যে ক’টি আপিলের শুনানি হয়েছে, তার মধ্যে ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রেই ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার আর্জি জানান আইনজীবীরা।শঙ্করনারায়ণন জানান, গত মে মাস থেকে রাজ্য সরকার অন্তত তিনটি নির্দেশিকা (পিডিএস, অন্নপূর্ণা যোজনা এবং জাতিগত শংসাপত্র যাচাইকরণ) জারি করেছে। ‘সার’ প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের একটা বড় অংশই প্রান্তিক এবং আর্থিক ভাবে দুর্বল। ফলে তাঁরা সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন।

    এতে সিজেআইয়ের বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, গত ২৭ মে বিহারের ‘সার’ মামলার রায়েই বলা হয়েছিল, ‘সার’-এর তথ্য শুধুমাত্র নির্বাচনী উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা উচিত। কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে এর কোনও প্রভাব যেন না পড়ে। বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘ওই রায়ে এটাও বলা হয়েছিল যে, কমিশন সার-এর তথ্য কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নির্ধারণের কাজে ব্যবহার করতে পারবে না।’

    শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যদি সন্দেহভাজন নাগরিক হিসেবে কমিশন কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়, তবে সেই ব্যক্তির নাগরিকত্ব নির্ধারণের জন্য কমিশনকে অবিলম্বে কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানাতে হবে। বিচারপতি বাগচী এও বলেছেন, ‘বিহারের সার–মামলার রায়েই আমরা জানিয়েছি, নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব নির্ধারণের কোনও সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ নয়। কমিশন শুধুমাত্র ভোটার তালিকার বিষয়টি দেখতে পারে। তারা কাউকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ওই ব্যক্তি তাঁর নাগরিকত্ব হারাবেন।

    নাগরিকত্ব আইনের অধীনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কমিশনকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাছে বিষয়টি পাঠাতে হবে। যতদিন না চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে, ততদিন ওই ব্যক্তির আগের নাগরিকত্ব মর্যাদা বজায় থাকবে।’ আইনজীবীর আর্জি, অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে যেন তাঁদের নাগরিক অধিকার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না করা হয়।

  • Link to this news (এই সময়)