• শ্রমিক আন্দোলনের নামে হুজ্জতি করলে জেল, হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
    বর্তমান | ১৮ জুলাই ২০২৬
  • বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, মেজিয়া (বাঁকুড়া): দাবি আদায়ের নামে শিল্প সংস্থায় হুজ্জতি করলে, থাকতে হবে হাজতে।  রাজ্যে যে গুন্ডা দমন আইন চালু হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে আদায় করা হবে জরিমানাও। শিল্প মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুক্রবার এমনই কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের কারখানা সম্প্রসারণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানেই তিনি ট্রেড ইউনিয়নের নামে জঙ্গি আন্দোলনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন। পাশাপাশি বলেন, শিল্প সংস্থাগুলিকেও নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়েছেন, তৃণমূলের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইনসেনটিভ বা আর্থিক উৎসাহ প্রকল্প আবার তাঁরা চালু করবেন। তবে বিনিয়োগের উপর নির্ভর করবে না শিল্পের আর্থিক সুবিধা। কোন সংস্থা কত কর্মী নিয়োগ করছে বা কতটা কর্মসংস্থান হচ্ছে, তার ভিত্তিতেই মিলবে আর্থিক সুবিধা। শ্যাম স্টিলের গ্রুপ ডিরেক্টর ললিত বেরিওয়ালা জানিয়েছেন, তাঁরা মেজিয়ার কারখানায় নতুন করে ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করবেন। তাতে ২০ হাজার কর্মসংস্থান হবে। মুখ্যমন্ত্রীও দাবি করেছেন, বঙ্গে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে নামজাদা একাধিক সংস্থা যোগাযোগ করছে।

    শিল্প মঞ্চেও এদিন বেশ কিছুটা রাজনৈতিক পরিসর আনেন শুভেন্দু। বলেন, বাম আমলে হরতালের সংস্কৃতি চালু হয়েছিল। আর বিগত সংস্কারের আমলে ছিল কাটমানি ও সিন্ডিকেট রাজ।  তাতে পুলিশ ও প্রশাসনও যে যুক্ত ছিল, সে কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, গাড়ি নিয়ে বের হলেই অনেকে হাত পাতত। দিতে হত গুন্ডা ট্যাক্স আর ডান্ডা ট্যাক্স। পুলিশকে টাকা দিতে হত। এখন সেসব থেকে বাংলা বেঁচে গিয়েছে।  এমনকী  পঞ্চায়েত বা পুরসভা স্তরে কোনো বিনিয়োগ এলে, প্রতি বর্গফুট ধরে জনপ্রতিনিধিরা টাকা আদায় করতেন বলেও কটাক্ষ করেন  মুখ্যমন্ত্রী। তোলেন তৃণমূল জমানার দূর্নীতির প্রসঙ্গও। বলেন, ১ হাজার ২০০ টাকার রাজস্ব আদায় হলে ১০০ টাকা সরকারের ঘরে আসত। বাকি ১ হাজার ১০০ টাকা অন্য কোথাও চলে যেত! শুধু পাথর খাদান থেকে আগের আমলে যেখানে বছরে ৬০ কোটি টাকা সরকারের ভাঁড়ারে আসত, এখন সেখানে এক মাসে ৮২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। রাজনৈতিক বক্তব্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিধানচন্দ্র রায় বাংলায় শিল্প আনার কাজে হাত দিয়েছিলেন। বাম আমলে দুনিয়ার মজদুর এক হও স্লোগানে শিল্পের সর্বনাশ হয়েছে।।আর আগের আমলে  বাংলাকে শুধু বৃহত্তর বাংলাদেশে পরিণত করার চেষ্টা চলেছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বারবার বুঝিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নত হলে তবেই লগ্নির পরিবেশ তৈরি হবে। সরকার সেই কাজ নিশ্চিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বলেন, সরকারেরও কিছু কর্তব্য আছে। আমরা বাম আমলের মতো গুলি চালিয়ে জমি অধিগ্রহণ করব না। আবার বিগত সরকারের মতো শিল্পের জমি শিল্প সংস্থাকেই কিনতে বলব না। লগ্নিকারী সংস্থাকে আমরা দরজা দেখিয়ে দেব না। জমি কিনে দেব। পাশাপাশি কর্মীদের পিএফ, বিমা, সুরক্ষা ও নিরাপত্তার মতো দিকগুলিও নিশ্চিত করতে হবে শিল্প সংস্থাগুলিকে, হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। সঙ্গে পরিবেশ নষ্ট না করে কারখানা গড়ার পরামর্শ দেন তিনি। পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি সংস্থার নাম না করে তিনি বলেন, তারা যথেষ্ট পরিবেশ দূষণ করছে। আমরা ব্যবস্থা নেব।
  • Link to this news (বর্তমান)