মুর্শিদাবাদে পুলকারে ট্রেনের ধাক্কা, মৃত ৪ পড়ুয়া সহ পাঁচ
বর্তমান | ১৮ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: শুক্রবার সাত সকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী হতে হল কর্ণসুবর্ণের মানুষকে। খোলা লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল চার শিশু সহ পাঁচজনের। মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানার অন্তর্গত কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখার একটি স্টেশন কর্ণসুবর্ণ। তার অদূরেই গোবিন্দপুর লেভেল ক্রসিং। তখন সকাল ৬টা ৪০ মিনিট। দুরন্ত গতিতে ছুটে আসছিল নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার। আর গেট খোলা পেয়ে বিনা বাধায় লেভেল ক্রসিংয়ের উপর উঠে এসেছে একটি পুলকার। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনের প্রচণ্ড ধাক্কা। দুমড়ে মুচড়ে যায় গাড়িটি। পুলকারে ছিল ছ’জন স্কুল পড়ুয়া। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই শিশু সহ তিনজনের। পরে হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পুলকারের চালক ও দুই পড়ুয়ার চিকিৎসা চলছে। পুলকারটি পড়ুয়াদের নিয়ে গোবিন্দপুর থেকে কর্ণসুবর্ণর একটি বেসরকারি স্কুলে যাচ্ছিল।
মৃত চার শিশুর নাম, ফারহানা সুলতানা (৬), জেসিকা ইয়াসমিন (৯), তামান্না খাতুন (৮) ও ইসানুর রহমান (৯)। জামশেদ আলি (৬৫) নামে এক প্রৌঢ় সেই সময়েই সাইকেল চেপে লেভেল ক্রসিং পার করছিলেন। তাঁরও ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই ওই লাইন দিয়ে আপ নবদ্বীপ ধাম এক্সপ্রেস গিয়েছিল। সেই সময় লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ ছিল। ঠিক তার পরেই যখন নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি আসে, তখন গেট বন্ধ ছিল না। স্থানীয়দের দাবি, গেটম্যানের উদাসীনতার বলি হল চার শিশু। উত্তেজিত জনতা গেটম্যানকে কেবিনে ঢুকিয়ে তালা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ সুপার শচীন মক্কার সহ জেলা ও রেল পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসপির সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। বহরমপুর থানার পুলিশ গেটম্যান অনুপ কর্মকারকে গ্রেপ্তার করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফুলের মতো ছোটো ছোটো ছেলেমেয়ে প্রাণ হারিয়েছে। কিছু বলার ভাষা নেই। অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। গেটম্যানের জন্যই এমন ঘটনা ঘটল। এটা হিউম্যান এরর, দুর্ঘটনা নয়। গেটম্যান যা করেছেন, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।’
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, শুক্রবার সকালে যখন মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুরের মাঝে দুর্ঘটনা ঘটে, তখন সিগন্যালিং ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল না। সিগন্যাল মেনেই এসেছিল নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার। ইন্টারলকিং গেট পরিচালনায় নিযুক্ত গেটম্যান ও সুপারভাইজারের গাফিলতিতেই এই দুর্ঘটনা। সেই কারণে তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। দুর্ঘটনার জেরে ওই শাখায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার তদন্তে ১০ সদস্যের একটি দল গঠন করেছে রেল। রেলের তরফে মৃতদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে ও রাজ্য সরকারের তরফে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। মৃত শিশুদের পরিবারের সদস্য এবং জখমদের সঙ্গে দেখা করতে মুর্শিদাবাদ মেডিকেলে আসেন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, জখমদের চিকিৎসার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। রেলের তরফে তাদেরও আড়াই লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।