• স্কুলে মোবাইল নয়, পড়ুয়াদের বিষয়ে কড়া হতে বলল উচ্চ মাধ্যমিক সংসদ
    বর্তমান | ১৮ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একাদশ-দ্বাদশের পড়ুয়াদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে সংসদ জানিয়েছে, পড়ুয়ারা যাতে মোবাইল ব্যবহার না করে, তা দেখার জন্য কঠোর নজরদারি করতে হবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। শুধু ক্লাসরুমে নয়, প্রার্থনার সময়, পরীক্ষার সময় এবং অন্যান্য অ্যাকাডেমিক ক্রিয়াকলাপের সময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে মোবাইল ফোন। দূরে থাকার কারণে অথবা বাড়িতে বা পড়ুয়ার নিজের কোনো অসুস্থা জনিত জরুরিকালীন কারণে মোবাইল আনা যাবে। তবে তা স্কুলে বন্ধ বা সাইলেন্ট মোডে রাখতে হবে। নিরাপদে মোবাইল রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে স্কুলগুলিকে। একান্তই মোবাইল ব্যবহার করতে হলে আগাম প্রধান শিক্ষকের অনুমতিও নিতে হবে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াকে।

    শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, উঁচু ক্লাসের পড়ুয়াদের মধ্যে মোবাইল ব্যবহার ছোঁয়াচে রোগের মতো ছড়িয়েছে। অনেক সময়ই মোবাইল নিয়ে পড়ুয়ারা ক্লাসে অমনোযোগী থাকে। অনেক সময় অন্যায্য এবং অসামাজিক কাজেও জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় তাদের। পড়ুয়ারা যাতে মোবাইল না আনে সেই ব্যাপারে শিক্ষকদের দিয়ে পড়ুয়াদের কাউন্সেলিংও করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, অভিভাবকদের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা সন্তানদের মোবাইল ফোন স্কুলে আনতে নিরুৎসাহিত করেন। পাশাপাশি, যথেচ্ছ মোবাইল ব্যবহারে যে সাইবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা প্রভৃতি ভঙ্গ হতে পারে, সেই শিক্ষাও পড়ুয়াদের দিতে বলা হয়েছে।

    এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষকদের একাংশ একাধিক প্রশ্নও তুলছেন। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষাদপ্তর ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে একাদশের পড়ুয়াদের স্মার্টফোন বা ট্যাব কেনার জন্য ১০ হাজার টাকা দেয়। তাই ফোন নিয়ে আপত্তি তুললে পড়ুয়ারা সেই অজুহাত দেয়। এ ধরনের নির্দেশিকা সাধারণত দিয়ে থাকে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। সংসদের তরফে এই নির্দেশিকা আসায় অনেকের প্রশ্ন, তাহলে কি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প বন্ধ হতে পারে? প্রসঙ্গত, গতবছর পুজোর আগেই এই টাকা দেওয়া হয়েছিল। এবার তার আগে এ ধরনের নির্দেশিকায় জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)