তৃণমূলের ১৫ বছরের গুন্ডামি ছাপিয়ে যাচ্ছে, নিজের কর্মীদের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক বিজেপি বিধায়ক জিতেন
বর্তমান | ১৮ জুলাই ২০২৬
সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: ‘১৫ বছর শাসন করার পর তৃণমূল নেতারা যেমন গুন্ডা হয়েছিল, দু’মাসের মধ্যে আমাদের লোকরা তার থেকেও বড়ো গুন্ডা হওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের পার্টি কর্মীরাই সাধারণ মানুষের বাঁচা কঠিন করে দিয়েছে।’ খোটাডিহিতে দলের প্রকাশ্যে সভায় এই ভাষাতেই নিজের দলের নেতা ও কর্মীদের একাংশের তীব্র সমালোচনা করলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি। তিনি আরও বললেন, ‘ওরা মাসে ইসিএলের চারটে কোয়ার্টার দখল করত, এরা তো এক সপ্তাহে চারটে দখল করছে! যেখান থেকে খুশি চাঁদা তুলছে। ঠিকাদারদের টাকা দেওয়ার জন্য হয়রান করছে।’
এখানেই থেমে থাকেননি জিতেন্দ্র। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কিছু নেতা আর স্রেফ নেতা নেই, কালেকশন মাস্টার হয়ে গিয়েছে। ভোটের আগে ২ হাজার টাকা খরচ করলেও আমার কাছে বারবার ফোন করে চাইত। আর এখন ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। কেউ টাকা চাইছে না। ওই টাকা আসছে কোথা থেকে?’ পাণ্ডবেশ্বরের খোটাডিহির নেতাদের একাংশকে টার্গেট করে বিজেপি বিধায়ক বলেন, ‘তৃণমূল যা করত, আমাদের ছেলেরা তাই করছে। দু’মাসের মধ্যে আপনাদের দেখে মানুষ ভয় পাচ্ছে। ভোটের আগে যে পোশাক, মোবাইল, গাড়ি ব্যবহার করতেন, দু’মাসের মধ্যে হঠাৎ কীভাবে এত পরিবর্তন? মানুষ কিন্তু এই জন্য বিজেপিকে ভোট দেয়নি।’
প্রশাসনিক কাজেও যে তৃণমূল নেতাদের মতো বিজেপি নেতারা হস্তক্ষেপ করছেন, তাও সভা থেকে স্পষ্ট করে দেন বিধায়ক। বলেন, ‘নিজেদের থানার ওসি ভাবছেন। কোনো মহিলার প্রতি অত্যাচার হলে তিনি থানায় অভিযোগ করলে বলছেন, আপনারা দেখে দেবেন। কোলিয়ারিতে কোনো সমস্যা হলে ইসিএল জিএম, এজেন্টরা দেখবে। আপনারা কেন দায়িত্ব নিচ্ছেন?’ এলাকার তিনটি বুথের নেতাদের কর্মকাণ্ডে বিধায়ক এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে, সভামঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন, এই বুথগুলির সব কমিটি এক মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হল। এখানে একমাত্র নেত্রী হিসাবে কাজ করবেন সোনালি গিরি। বিধায়কের হুঁশিয়ারি, ‘ফোনে এইসব নেতা-কর্মীদের বারবার সতর্ক করার পরও একই কাজ হচ্ছে। তাই মঞ্চ থেকে প্রকাশ্যে বলতে হল। একমাস দেখব নেতাদের মধ্যে পরিবর্তন আসছে কি না। তারপর পদের কথা বিবেচনা হবে।’ তাঁর আক্ষেপ, ‘কেউ তো রাস্তা, আলোর জন্য একবারও আমার কাছে আসছে না?’
পাণ্ডবেশ্বরের ডাকাবুকো বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারির এই মন্তব্য শিল্পাঞ্চলে শোরগোল ফেলেছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিজেপি জেতার পর শিল্পাঞ্চলের প্রকৃত বিষয়টি বিধায়কের কণ্ঠে উঠে এসেছে। শিল্পাঞ্চলের বহু বিজেপি নেতাই তৃণমূলের জুতোয় পা গলিয়েছে। বিষয়টিকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে জিতেন্দ্রর বক্তব্যের একাংশ পোস্ট করেছে। তৃণমূল নেতা ভি শিবদাসন দাসু বলেন, ‘শিল্পাঞ্চলের প্রকৃত ঘটনাই তুলে ধরেছেন বিধায়ক। এখনও তাঁরা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে হাতের বাইরে চলে যাবে।’ সিপিএম নেতা পার্থ মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘ভালো তৃণমূলের বিজেপিতে প্রবেশের পর এটাই তো স্বাভাবিক। বিধায়কের এই উপলব্ধি একেবারেই সঠিক।’
আর স্বয়ং বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য কী? ‘তিনটি বুথ থেকে বহু অভিযোগ পাচ্ছিলাম। তাই নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছি। আমি বলেছি, তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের মতো হবেন না। তা নিয়েই ওরা প্রচার করছে। কতটা দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে একটা রাজনৈতিক দল!’