• লিও মেসিকে বশ মানাতে তৈরি স্পেনের তিকি-তাকা
    বর্তমান | ১৮ জুলাই ২০২৬
  • সোমনাথ বসু: আর মাত্র একটা দিন। তারপরেই নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বহু কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ ফাইনাল। মুখোমুখি আর্জেন্তিনা এবং স্পেন। লিও মেসির সৌজন্যে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বসেরা হওয়ার আশায় বুক বাঁধছে বুয়েনস আইরেস থেকে বারাকপুর। কিন্তু অন্যরকম ভাবছেন লুই ডে লা ফুয়েন্তে। রড্রি-ওয়ারজাবাল-ইয়ামালদের নিয়ে তিনি নীল-সাদা ঢেউ রুখতে তৈরি। সেমি-ফাইনালে এমবাপে-ডেম্বেলে সমৃদ্ধ ফ্রান্সকে হেলায় হারানোর পর পিছন ফিরে তাকাতে রাজি নন স্প্যানিশ কোচ। পূর্বসূরি লুই এনরিকের দেখানো পথেই তিনি এগিয়ে নিয়ে চলেছেন স্প্যানিশ আর্মাডাকে। পাশাপাশি তিকি-তাকাকেও।

    জোহান ক্রুয়েফের মস্তিষ্কপ্রসূত এই স্টাইল খুবই দৃষ্টিনন্দন। কার্যকরীও বটে। ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত এই স্ট্র্যাটেজিতেই বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব চালিয়েছে স্পেন। লুই আরাগোনেস এবং দেল বস্কির বিশ্বাস ছিল তিকি-তাকায়। মনে করে দেখুন, এই পর্বে বার্সেলোনায় পেপ গুয়ার্দিওলা যুগ। পিকে, পুওল, জাভি, ইনিয়েস্তা, ভিয়ারা তাঁর হাতেই তৈরি। লা মাসিয়া থেকে একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলার বেরিয়ে যোগ দেন বার্সায়। বাকিটা ইতিহাস। ছোটো ছোটো পাসে আক্রমণ গড়ে গোলের পথ তৈরি করা, বল পজেশন হারালে তা ফের নিয়ন্ত্রণে আনাই তিকি-তাকার মূলমন্ত্র। ২০১০ বিশ্বকাপে এই ফুটবলের সাক্ষী গোটা দুনিয়া। ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনা এখনও এই স্টাইলে বিশ্বাসী।

    ফাইনালে তিকি-তাকার মাধ্যমেই মেসিকে বশ মানাতে চায় স্পেন। সেমি-ফাইনালে তাঁরা দেখিয়েছে, এমবাপে-ওলিসে-ডেম্বেলেদের কীভাবে নিষ্প্রভ করা যায়। এবার মেসিকে রোখার পালা। ফুয়েন্তে চাইবেন, পাসিং ফুটবলের ঝড় তুলে বল পজেশন যতটা বেশি সম্ভব নিজেদের কাছে রাখতে। এছাড়া মেসিকে মার্ক করার জন্য পেড্রো-কুবার্সিদের তাঁর পরামর্শ, ‘কখনো ওকে ইনসাইড কাট করতে দিও না। ডানপ্রান্তে বল পেলে মেসিকে নিয়ে যাও সাইডলাইনের দিকে। আর ‘ডাউন দ্য মিডল’ দৌড় আটকাতে তৈরি করো চক্রব্যূহ। শট তো নয়ই, মেসিকে সেন্টার তুলতে দিলেও বিপদ।’

    ফ্রান্সকে হারানোর পর ওয়ারজাবালকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘আমরা স্বাভাবিক খেলা খেলেছি। এমবাপেদের নিয়ে বেশি মাথা ঘামাইনি। পরিকল্পিত পাসিং ফুটবলের কোনো উত্তর ছিল না ওদের কাছে। টানা ৩৭টি ম্যাচ স্পেন জিতেছে। সংখ্যাটা ৩৮’এ নিয়ে গেলেই আমরা বিশ্বসেরা।’ আশা করা যায়, ফাইনালেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করবে স্পেন। কিন্তু এটাও তাদের মনে রাখা উচিত, এমবাপে ও মেসির মধ্যে পার্থক্য কিন্তু অনেকটাই। তাছাড়া দীর্ঘদিন বার্সেলোনায় খেলার সুবাদে এলএমটেন জানেন, কীভাবে এই ফাঁদ কেটে গোলের পথ খুঁজে নিতে হয়। ক্লাব পর্যায়ে তাঁর সঙ্গী ছিলেন জাভি-ইনিয়েস্তারা। আর এখন আর্জেন্তিনায় মেসির সঙ্গে তাল মেলাতে তৈরি ম্যাক অ্যালিস্টার-জুলিয়ান আলভারেজরা।
    আর্জেন্তিনার কোচ লায়োনেল স্কালোনি প্রেসিং ফুটবলে বিশ্বাসী। প্রতিপক্ষ অনুযায়ী তিনি পরিকল্পনা তৈরি করেন। স্পেনকে নিশ্চয়ই তিকি-তাকা খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা নয় তাঁর। প্রয়োজনে টাফ ফুটবল খেলে বিপক্ষের অনভিজ্ঞ ফুটবলারদের ফোকাস নড়াতে চাইবেন স্কালোনি। আর গোলের জন্য তাঁর কাছে রয়েইছে একটি পাসওয়ার্ড, মেসি।
  • Link to this news (বর্তমান)